দলবদলের ধাক্কায় তৃণমূল কি নিজের প্রতীকই হারাবে?
বঙ্গ রাজনীতিতে এখন ব্যাপক দলবদলের মরশুম চলছে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারসহ একাধিক নেতা দল ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী বিধায়কদেরও দলত্যাগের সম্ভাবনায় তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দল বেশ চাপে পড়েছে। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য রাজনীতিতে ফের প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে প্রায় ছয় দশক পুরনো ‘আয়ারাম-গয়ারাম’ রাজনীতির ইতিহাস ও সেই সুবিধাবাদী দলবদল রোধে প্রণীত আইন।
১৯৬৭ সালে হরিয়ানার বিধায়ক গয়া লালের ঘনঘন দলবদলের ঘটনায় উদ্ভূত এই প্রবণতা রুখতে ১৯৮৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রণয়ন করেন। এই আইন অনুযায়ী, নির্বাচিত কোনো জনপ্রতিনিধি স্বেচ্ছায় দলের সদস্যপদ ত্যাগ করলে বা দলের হুইপ অমান্য করলে তাঁর সদস্যপদ খারিজ হওয়ার সংস্থান রয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে দলের মালিকানা ও প্রতীক অক্ষুণ্ণ রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে রাজীব গান্ধীর প্রণীত এই আইনই প্রধান রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করতে পারে। আইনি নিয়মানুযায়ী, জনপ্রতিনিধিরা দলত্যাগ করলেও সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোই দলের প্রকৃত মালিকানা ও প্রতীক নির্ধারণের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ভূমিকা পালন করবে।