তৃণমূল বিধায়কদের ‘স্বাধীনতা’ প্রাপ্তির বার্তায় শুভেন্দুর নতুন ধামাকা

ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে বুধবার শপথ নিলেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার সিঁড়িতে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করে ভেতরে প্রবেশ করার পর, বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এক বিস্ফোরক দাবি করেন তিনি। শুভেন্দু জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক বিধায়ক ইতিমধ্যে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁরা ‘মুক্তি’ খুঁজে পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
তৃণমূল শিবিরে ভাঙনের ইঙ্গিত
সাংবাদিকদের শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক আমার কাছে এসেছেন। তাঁরা আমাকে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তাঁরা এবার স্বাধীনতা পেলেন।” শুভেন্দুর এই মন্তব্যের মাধ্যমে শাসক শিবিরে বড়সড় ফাটল ধরার ইঙ্গিত মিলছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি যেভাবে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছেন, তাতে ঘাসফুল শিবিরের বিধায়কদের মধ্যে দলবদলের প্রবণতা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ভবানীপুরের বিধায়ক পদ গ্রহণের জন্য তাঁকে প্রিয় নির্বাচনী কেন্দ্র নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছাড়তে হয়েছে। যদিও তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, নন্দীগ্রামের উন্নয়নে তিনি কোনো খামতি রাখবেন না।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও মোদী মডেল অনুসরণ
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের কাজের ধরন সম্পর্কে এদিন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই সরকার হবে সাধারণ মানুষের জন্য এবং বিধানসভার কোনো কাজ গোপন রাখা হবে না। প্রশাসনিক সচিবদেরও তিনি দলদাসের মতো আচরণ না করে স্বাধীনভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আদর্শ অনুসরণ করে নিজের কনভয়ের বহর ছোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। বিজয় মিছিলের বদলে সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, রাজ্যে কোনো প্রকার জোরজবরদস্তি বা অশান্তির রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। শুভেন্দুর এই কঠোর ও স্বচ্ছ অবস্থান রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।