তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হতেই ‘বিস্ফোরক’ ঋজু, দুর্নীতির অভিযোগে সরব প্রাক্তন মুখপাত্র

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ছয় বছরের জন্য সাসপেন্ড হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দলের বিরুদ্ধে বেনজির আক্রমণে নামলেন ঋজু দত্ত। এতদিন যে দলের হয়ে তিনি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সওয়াল করতেন, সেই দলের বিরুদ্ধেই এবার ‘চাকরি বিক্রি’ এবং ‘তোলাবাজি’র গুরুতর অভিযোগ তুললেন তিনি। ঋজুর এই ভোলবদল এবং শাসক দলের কড়া সমালোচনা রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

দুর্নীতি নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি

সাসপেনশনের পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় ঋজু দত্ত সরাসরি স্বীকার করে নেন যে, রাজ্যে চাকরি বিক্রির বিষয়টি প্রমাণিত। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “চাকরি বিক্রি হয়নি—এই কথা বলার মতো বড় পাপ আর কিছু হতে পারে না। তৃণমূলের অন্দরে দুর্নীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কারও বাড়িতে একটা সাধারণ কোমড বসাতে হলেও দলকে টাকা দিতে হয়।” এতদিন দলের ভেতরে থেকে যা মুখ ফুটে বলতে পারেননি, আজ বহিষ্কৃত হয়েই সেই ‘সত্য’ সামনে আনছেন বলে দাবি তাঁর।

রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও জনমত

রাজ্যের সাম্প্রতিক শাসনব্যবস্থা ও নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ঋজু দত্তর মন্তব্য আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, বাংলার ৯৩ শতাংশ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়ে এক ‘নতুন স্বাধীনতা’র স্বাদ পেয়েছে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে বলেন, “কলকাতার রাস্তায় বেরোলে মনে হচ্ছে ভারত জিতেছে আর পাকিস্তান হেরেছে। মানুষ এখন মন খুলে কথা বলতে পারছে, যা আগে সম্ভব ছিল না।” তাঁর এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তিনি কেবল দলীয় নেতৃত্বের ওপর ক্ষুব্ধ নন, বরং রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঢেউকেই সমর্থন করছেন।

আগামী দিনের গতিপ্রকৃতি

তৃণমূলের একসময়ের দাপুটে মুখপাত্রের মুখে এই ধরণের ‘বিস্ফোরক’ মন্তব্য শাসক শিবিরের অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। অন্যদিকে, বিজেপি বা অন্য কোনো বিরোধী দলে যোগদানের জল্পনা আগে উড়িয়ে দিলেও, তাঁর বর্তমান সুর বিরোধী শিবিরের বক্তব্যের সঙ্গেই হুবহু মিলে যাচ্ছে। ঋজু দত্তর এই আক্রমণাত্মক অবস্থান আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে কোনো বড়সড় মোড় নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *