তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহ, মমতার হাতছাড়া হচ্ছে খোদ ২০ সাংসদ!

তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙনের জল্পনা: ২০ সাংসদের বিদ্রোহে তোলপাড় দিল্লি

লোকসভার ২০ জন তৃণমূল সাংসদের বিদ্রোহ এবং ত্রিপুরার আঞ্চলিক দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (NCPI)-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জল্পনা ঘিরে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিক্ষুব্ধ সাংসদরা ইতিমধ্যে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার হাতে চিঠি তুলে দিয়েছেন। সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ-বিরোধী আইনের ২০০৩ সালের সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, আইনি সুরক্ষা পেতে হলে যেকোনো দলের মোট সাংসদ সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ বা তার বেশি সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। লোকসভায় তৃণমূলের বর্তমান সাংসদ সংখ্যা ২৮, সেই হিসেবে দল বাঁচাতে ১৯ জনের সমর্থন প্রয়োজন হলেও বিদ্রোহীদের দাবি অনুযায়ী বর্তমানে তাদের সঙ্গে ২০ জন সাংসদ রয়েছেন, যা তাদের আইনত সুরক্ষিত অবস্থানে রেখেছে।

সাংসদ পদ অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়টি আইনত স্পষ্ট হলেও দলের নাম ও প্রতীক কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংসদ পদ বাঁচানো এবং সংগঠনের ওপর অধিকার বজায় রাখা দুটি ভিন্ন বিষয়। মহারাষ্ট্রের শিবসেনা বা এনসিপি-র ঘটনার মতো এক্ষেত্রেও উত্তরাধিকারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। বিদ্রোহীরা লোকসভায় নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করলেও, সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব খতিয়ে দেখেই কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। ফলে তৃণমূলের নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক কার দখলে থাকবে, সেই লড়াই এখন নির্বাচন কমিশনের দরজায় পৌঁছাতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *