চোরেরা চাকরি পাচ্ছে, ২০ হাজার বেতন! কর্পোরেট স্টাইলে এবার ডাকাতি!
বেকারত্বকে কাজে লাগিয়ে বিহারের চোর চক্রের অভিনব পন্থা, রেলপথে চাঞ্চল্য
রেলপথে অপরাধের ধরণে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে বিহারের একটি চোর চক্র। এই চক্রটি অভিনব উপায়ে শিক্ষিত বেকার যুবকদের মাসিক নির্দিষ্ট সম্মানের বিনিময়ে নিয়োগ দিয়ে অপরাধমূলক কাজ করাতো। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের নাগপুর থেকে রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সের (আরপিএফ) হাতে এই চক্রের তিন সদস্য ধরা পড়ার পর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রের মূল হোতা বিহারের খাগাড়িয়া জেলায় থেকে পরিচালিত করত। তারা অভাবী ও বেকার যুবকদের মাসে ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা বেতনের লোভ দেখিয়ে দলে টানত। এই নিয়োগের পর, ভিড় ট্রেনে কীভাবে যাত্রীদের অলক্ষ্যে মোবাইল বা গয়না চুরি করতে হয় এবং পুলিশের নজর এড়াতে হয়, সে বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হতো।
গ্রেপ্তারকৃতদের বয়ান অনুযায়ী, নাগপুর, বিলাই, রায়গড় ও বিলাসপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে রুটগুলোতে এই বেতনভুক্ত চোরেরা সক্রিয় ছিল। তারা মূলত রাতের অন্ধকারে ঘুমন্ত যাত্রীদের মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে দলনেতার কাছে পৌঁছে দিত এবং মাস শেষে নির্দিষ্ট বেতন গ্রহণ করত। এই সংগঠিত অপরাধচক্রটি রেলযাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য বড়সড় ঝুঁকি তৈরি করছে। পুলিশ বর্তমানে বিহারের ৪২ বছর বয়সী কৈলাশ দাস সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এই চক্রের মূল মাস্টারমাইন্ড এখনো পলাতক। পুলিশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ চুরির সামগ্রী উদ্ধার করা হলেও, মূল হোতাকে ধরতে তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর আরপিএফ রেলযাত্রীদের ব্যক্তিগত মালামাল সম্পর্কে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।