গণনা কর্মী নিয়োগে সুপ্রিম ধাক্কা? ‘পিছু হটলেন সিইসি জ্ঞানেশ কুমার’, আদালতের নির্দেশে বড় দাবি তৃণমূলের
ভোটগণনার চূড়ান্ত লগ্নে সুপ্রিম কোর্টে বড় স্বস্তি পেল ঘাসফুল শিবির। গণনাকেন্দ্রে কর্মী নিয়োগ নিয়ে তৃণমূলের দায়ের করা মামলায় শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নিয়ম মেনেই কেন্দ্র এবং রাজ্য—উভয় সরকারের কর্মীদের ভোটগণনার কাজে নিযুক্ত করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পরই বিস্ফোরক বিবৃতি জারি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, আইনি লড়াইয়ের চাপে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও তৃণমূলের অবস্থান
শনিবার সুপ্রিম কোর্ট তার পর্যবেক্ষণে জানায় যে, গণনাকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও বৈষম্য করা চলবে না। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কর্মীদের সংমিশ্রণ রেখেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তৃণমূলের দাবি ছিল, কমিশন একতরফাভাবে কেবল কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছিল, যা নিরপেক্ষতাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। আদালতের এই ‘স্বীকৃতি’ আসার পরেই তৃণমূলের তরফে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি গণতান্ত্রিক অধিকারের জয় এবং কমিশনের ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ নীতির পরাজয়।
নিশানায় জ্ঞানেশ কুমার
তৃণমূলের বিবৃতিতে সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করা হয়েছে। শাসকদলের মতে, কমিশনের বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে তাদের আপত্তির সারবত্তা আদালত মেনে নিয়েছে বলেই সিইসি-কে নিজের অবস্থান থেকে সরতে হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে, তৃণমূল একে তাদের বড় নৈতিক জয় হিসেবেই তুলে ধরছে।
কমিশনের মৌনতা
তৃণমূলের এই কড়া বিবৃতির বিপরীতে ভারতের নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর কমিশন তাদের গণনাকর্মী নিয়োগের তালিকায় কোনও বদল আনে কি না, এখন সেটাই দেখার। তবে ৪ মে-র মহাগণনার আগে সুপ্রিম কোর্টের এই হস্তক্ষেপ গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গণনার দিন কড়া নজরদারি
আগামী সোমবার গণনাকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি কর্মীদের অনুপাত ঠিক থাকছে কি না, সেদিকে কড়া নজর রাখবে তৃণমূলের লিগ্যাল সেল। নিয়ম লঙ্ঘন হলে আবারও আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছে তারা। সব মিলিয়ে গণনার আগে আইনি লড়াইয়ের এই জল মাপছে এখন সব পক্ষই।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।