খাদ্য ও ওষুধের হাহাকার, চরম বিপর্যয়ের মুখে পাক অধিকৃত কাশ্মীর!
পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অঞ্চলটিতে তীব্র উত্তেজনা ও মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জনমতের আশঙ্কায় পাকিস্তানি সেনা সেখানে কঠোর দমনপীড়ন শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর ক্রমাগত অত্যাচারের পাশাপাশি আটা, চাল, চিনি, ডাল ও জ্বালানির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, জীবনদায়ী ওষুধ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন থাকায় বাইরের পৃথিবীর সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে অবরুদ্ধ অঞ্চলের বাসিন্দারা।
সেনা ও সরকার নিয়ন্ত্রিত বাহিনীর দমননীতির প্রতিবাদে ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি) ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। পাক সরকার এই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে বিক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলন দমাতে সশস্ত্র বাহিনীর নির্বিচারে চালানো গুলিতে চিকিৎসক ও নারীসহ অসংখ্য সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। বর্তমানে মুজাফ্ফরাবাদসহ প্রধান শহরগুলোর দোকানপাট ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। রাজনৈতিক স্বার্থে মৌলিক অধিকার হরণ ও তীব্র মানবিক বিপর্যয়ের ফলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে, যা আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।