“কেন কাছে আসো না?” স্বামীর অনীহায় বিচ্ছেদ নয়, সটান থানায় গিয়ে শারীরিক পরীক্ষার দাবি নার্স স্ত্রীর
উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে এক বিচিত্র দাম্পত্য কলহের খবর প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে বিয়ের এক বছর পার হলেও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেননি স্বামী। পেশায় বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচার চেয়ে অবশেষে থানার দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগী স্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর অনীহা এবং বিভিন্ন অজুহাতে এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।
গোপন সত্যের উন্মোচন ও সামাজিক জটিলতা
নার্সিং নিয়ে পড়াশোনা করা ওই গৃহবধূ জানান, বারবার চেষ্টা করা সত্ত্বেও তার স্বামী শারীরিক সংসর্গ এড়িয়ে যেতেন এবং কখনও কখনও এইডস বা অন্যান্য রোগের অজুহাত দিয়ে তাকে আতঙ্কিত করতেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবারে অশান্তি শুরু হলে স্বামী উল্টো স্ত্রীর চরিত্রের ওপর অপবাদ দিয়ে তাকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেন। তবে পুলিশের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তি নিজেকে সমকামী হিসেবে দাবি করেন, যা শুনে উপস্থিত সকলেই হতবাক হয়ে যান।
তদন্ত ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
ভুক্তভোগী স্ত্রী তার স্বামীর শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন। তিনি এখনও ঘর ভাঙতে নারাজ এবং একটি স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন ফিরে পেতে ইচ্ছুক। গোরক্ষপুর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ওই নারীকে সব ধরনের আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে। এই ঘটনাটি সামাজিক রক্ষণশীলতার আড়ালে চাপা পড়া মানসিক ও শারীরিক সমস্যার এক জটিল বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলেছে।
এক ঝলকে
- বিয়ের এক বছর পরও শারীরিক সম্পর্ক না গড়ায় স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন স্ত্রী।
- বিবাদের জেরে স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে তার চরিত্রের ওপর কলঙ্ক লেপনের চেষ্টা করেন অভিযুক্ত স্বামী।
- পুলিশের উপস্থিতিতে জেরার মুখে স্বামী নিজেকে সমকামী বলে স্বীকার করেছেন।
- পুলিশ মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।