কালবৈশাখীর তাণ্ডব! ঘণ্টায় ৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা, জেনে নিন আজকের আপডেট

বর্তমান ডেস্কঃ

দক্ষিণ-পূর্ব রাজস্থান থেকে মণিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি দীর্ঘ অক্ষরেখা এবং উত্তর বাংলাদেশ সংলগ্ন এলাকায় সক্রিয় ঘূর্ণাবর্তের জোড়া প্রভাবে বদলে যাচ্ছে রাজ্যের আবহাওয়া। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন দিন রাজ্যজুড়ে কালবৈশাখীর দাপট অব্যাহত থাকবে। বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর জলীয় বাষ্পের কারণে তৈরি হওয়া বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর দাপট

আজ বৃহস্পতিবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনা এবং হুগলি জেলায় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অন্যান্য জেলাগুলিতেও ৪০ থেকে ৫০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। শুক্রবারও এই ঝোড়ো পরিস্থিতির রেশ বজায় থাকবে।

উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি

উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও আজ এবং আগামীকাল বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে ৪০ থেকে ৫০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে। ১৮ এপ্রিল থেকে পাহাড় ও ডুয়ার্স সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

তাপমাত্রা ও পরবর্তী পরিস্থিতি

ঝড়-বৃষ্টির প্রভাবে আগামী দু’দিনে তাপমাত্রা প্রায় ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে, যা সাধারণ মানুষকে সাময়িক স্বস্তি দেবে। তবে ১৮ ও ১৯ এপ্রিল থেকে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া মূলত শুষ্ক হতে শুরু করবে। ১৯ এপ্রিলের পর থেকে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুর সহ পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে গরম এবং আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০ থেকে ২২ এপ্রিলের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে।

এক নজরে

  • আগামী ৩ দিন রাজ্যজুড়ে কালবৈশাখী ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস।
  • আজ দক্ষিণবঙ্গের ৫ জেলায় ঝড়ের গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ৬০ কিমি।
  • উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও ডুয়ার্সে ১৮ এপ্রিল থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা।
  • আগামী দু’দিনে তাপমাত্রা ২-৩ ডিগ্রি কমলেও পরবর্তী সপ্তাহে ফের গরম বাড়বে।
  • রাজস্থান থেকে মণিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত অক্ষরেখাই এই দুর্যোগের প্রধান কারণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *