এবার বাংলায় উত্তরপ্রদেশের মডেল, বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে ‘বুলডোজার’ চালানোর হুঁশিয়ারি বিজেপি বিধায়ক স্বরাজের
পেট্রল-ডিজেলের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কুকুরকে খাওয়ানো নিষিদ্ধের প্রস্তাব ঘিরে শিক্ষক ও পশুপ্রেমীদের প্রতিবাদের মাঝেই, রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অলিন্দে এক মস্ত বড় আলোড়ন পড়ে গেছে। এবার যোগী রাজ্যের চেনা ‘বুলডোজার নীতি’ বা ‘বুলডোজার রাজ’-এর ছায়া দেখা গেল খোদ পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে। হুগলির সপ্তগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বাঁশবেড়িয়া পুরসভা এলাকায় পুকুর ভরাট ও দেদার বেআইনি বহুতল নির্মাণের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি বুলডোজার নামানোর হুঁশিয়ারি দিলেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক স্বরাজ ঘোষ।
বৃহস্পতিবার ওই এলাকায় এক মেগা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, নব্য বিজেপি সরকার রাজ্যে কোনো ধরণের বেআইনি বা দুর্নীতিমূলক কাজ বরদাস্ত করবে না। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এবং জলাশয় রক্ষায় প্রয়োজনে উত্তরপ্রদেশের কায়দাতেই এখানেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পুকুর ভরাট ও বেআইনি বহুতলের রমরমা, ক্ষুব্ধ বিধায়ক
বাঁশবেড়িয়ার স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, বিগত দীর্ঘ সময় ধরেই বাঁশবেড়িয়া পুরসভা এলাকার একাধিক ওয়ার্ডে রাতের অন্ধকারে পুকুর ও জলাশয় ভরাট করে বেআইনিভাবে বহুতল আবাসন (Promoting) গড়ে তোলার লাগাতার অভিযোগ উঠছিল। নতুন সরকারের জমানায় প্রশাসন এই ধরণের সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিতেই বৃহস্পতিবার নিজে সশরীরে কোমর বেঁধে ময়দানে নামেন বিধায়ক স্বরাজ ঘোষ। এলাকা ঘুরে বেআইনি নির্মাণের বহর দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে বিধায়ক স্পষ্ট বার্তা দেন:
- কঠোর আইনি পদক্ষেপ: বাঁশবেড়িয়ার বুকে যতগুলি পুকুর বেআইনিভাবে ভরাট করা হয়েছে এবং পুরসভার নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যে সমস্ত বহুতল খাড়া করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- উত্তরপ্রদেশের মডেল: বেআইনি দখলদারদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বরাজ ঘোষ বলেন, “বেআইনি কাজ যারা করেছেন, তারা সাবধান হয়ে যান। বিজেপি সরকার অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। সাধারণ মানুষের স্বার্থে এবং আইন ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে উত্তরপ্রদেশের মতো এখানেও বেআইনি নির্মাণের ওপর বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।”
সিন্ডিকেট রাজের অবসান, ভাঙছে পুরোনো দুর্গ
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজাবাজারে তোলাবাজির অভিযোগে তৃণমূল কাউন্সিলর সম্রাট বড়ুয়ার গ্রেফতারি এবং দক্ষিণ দমদমে সুজিত বসুর ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর হুগলির মাটিতে বিজেপি বিধায়কের এই ‘বুলডোজার হুঁশিয়ারি’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে নতুন শাসকদল স্পষ্ট করে দিল যে, বাংলায় পুরোনো জমানার সিন্ডিকেট, প্রোমোটিং চক্র এবং জলাশয় বুজিয়ে বহুতল বানানোর কারবারিদের দিন এবার শেষ হতে চলেছে।
একদিকে যখন আগামী ১ জুন থেকে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের টাকা সরাসরি মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর জন্য প্রশাসন ‘মিশন মোড’-এ ভুয়ো নাম ছাঁটার কাজ করছে এবং অন্যদিকে সিএনজি ও পেট্রলের ‘রাম ছ্যাঁকা’ নিয়ে আমজনতা জেরবার— সেই চেনা ডামাডোলের সমান্তরালে হুগলির বাঁশবেড়িয়ায় বিধায়কের এই ‘দাবাং’ অ্যাকশন রাজ্যের আবাসন ও পুর-প্রশাসনে এক নতুন কম্পন তৈরি করল। এই হুঁশিয়ারির পর বাঁশবেড়িয়া পুরসভা ও জেলা প্রশাসন বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে কবে থেকে বুলডোজার নামায়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে ওয়াকিবহাল মহলের।