আসন্ন লোকসভা নির্বাচন, নারী কোটা নিয়ে তুমুল বিতর্ক!
নারী সংরক্ষণ বিল লোকসভায় প্রত্যাখ্যাত: রাজনৈতিক অচলাবস্থা
ভারতের রাজনীতিতে নারী সংরক্ষণের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর সরকারের ১২ বছরের শাসনামলে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১৬ করার সরকারি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বিরোধীরা তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আসন বৃদ্ধির মাধ্যমেই নারীদের ৩৩ শতাংশ কোটা নিশ্চিত করতে চায় এনডিএ প্রশাসন। কিন্তু বিরোধীরা বিদ্যমান543 আসন কাঠামোতেই অবিলম্বে সংরক্ষণের দাবি তুলেছে।
ডিলিমিটেশন ও দক্ষিণ ভারতের উদ্বেগ: সংকটের মূল কারণ
সরকার ২০২১ সালের আদমশুমারি তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন করতে চাইছে। এর বিরুদ্ধে দক্ষিণী রাজ্যগুলো, বিশেষ করে ডিএমকে-র মতো দলগুলো কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের নীতি কঠোরভাবে পালন করায় ডিলিমিটেশনের ফলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো লোকসভায় প্রতিনিধিত্ব হারাবে এবং উত্তর ভারতের রাজনৈতিক প্রভাব আরও বৃদ্ধি পাবে। এই জটিলতা এড়াতে ডিএমকে সাংসদ পি. উইলসন একটি বেসরকারি বিল পেশ করেছেন, যেখানে আসন সংখ্যা না বাড়িয়েই বর্তমান ৫৪৩টি আসনেই সরাসরি সংরক্ষণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সংবিধানের জটিলতা ও ওবিসি কোটার দাবি
আইনিভাবে ২০২৩ সালের ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ পাশ হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। সংবিধানের ৩৩৪এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন আদমশুমারি এবং তারপর সীমানা পুনর্নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত এই সংরক্ষণ কার্যকর হওয়া অসম্ভব, যা ২০৩৪ সালের আগে হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। অন্যদিকে, কংগ্রেস, এসপি এবং আরজেডির মতো দলগুলো ওবিসি নারীদের জন্য বিশেষ উপ-কোটার দাবি জানাচ্ছে। তবে বর্তমানে সংবিধানের ৩৩০ ও ৩৩২ অনুচ্ছেদে কেবল এসসি এবং এসটিদের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকায়, ওবিসিদের জন্য রাজনৈতিক কোটা প্রবর্তন করা সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।