‘আবেদন খারিজ নয়, জয় হয়েছে আমাদেরই’, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ‘ভুল ব্যাখ্যা’ নিয়ে সরব কপিল সিব্বাল

পশ্চিমবঙ্গের ভোটগণনা প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের তীব্র বিরোধিতা করলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কপিল সিব্বাল। তাঁর দাবি, আদালতের নির্দেশের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তৃণমূলের আবেদন খারিজ হয়নি, বরং আদালত কমিশনকে তাদের নিজস্ব নির্দেশিকা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার কথাই বলেছে।

আদালতে আসলে কী ঘটেছিল?

কপিল সিব্বালের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, লড়াইয়ের মোড় ঘুরেছিল শুনানির মাঝপথেই। প্রথম দিকে নির্বাচন কমিশনের ওই বিশেষ বিজ্ঞপ্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে কমিশন তাদের নিজস্ব নির্দেশিকাই সঠিকভাবে কার্যকর করছে না। সিব্বাল বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম কমিশন যেন তাদের তৈরি নিয়মগুলোই ঠিকমতো পালন করে। সুপ্রিম কোর্ট কমিশনকে সেই নির্দেশই দিয়েছে। এর মধ্যে খারিজ হওয়ার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?”

বিজ্ঞপ্তির বাস্তবায়ন ও তৃণমূলের অবস্থান

তৃণমূলের মূল আপত্তি ছিল গণনাকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি কর্মীদের নিয়োগ পদ্ধতি এবং সার্কুলারের প্রয়োগ নিয়ে। সিব্বালের যুক্তি, কমিশন তাদের ১৩ এপ্রিলের সার্কুলারে যে স্বচ্ছতার কথা বলেছিল, তৃণমূল কেবল সেটুকুই নিশ্চিত করতে চেয়েছিল। শীর্ষ আদালত কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে যে, তারা যেন তাদের নিজস্ব সার্কুলারটি ‘অক্ষরে অক্ষরে’ মেনে চলে। ফলে আইনি দিক থেকে তৃণমূল একে নিজেদের নৈতিক জয় হিসেবেই দেখছে।

বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ

সিব্বাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, সংবাদমাধ্যমের একটি অংশ বিষয়টিকে ‘তৃণমূলের হার’ বা ‘আবেদন খারিজ’ হিসেবে তুলে ধরছে, যা সত্যের অপলাপ। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, মামলাটি টেকনিক্যালি খারিজ হওয়া আর আর্জির সারবত্তা মেনে নিয়ে কমিশনকে নিয়ম পালনের নির্দেশ দেওয়ার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সিব্বালের মতে, আদালত যখন কমিশনকে নিয়ম মানতে বলে, তখন আদতে মামলাকারীর উদ্বেগেরই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

৪ মে-র গণনায় প্রভাব

আগামীকাল ৪ মে মহাগণনা। তার আগে সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ তৃণমূলের এজেন্টদের জন্য বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সিব্বালের এই স্পষ্টীকরণের পর তৃণমূলের দাবি, গণনাকেন্দ্রে নিয়মবহির্ভূত কোনও কর্মী নিয়োগ বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ঘটলে তাঁরা আদালতের এই নির্দেশকেই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবেন।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *