আইনি নোটিশ আর বিদ্রোহের সাঁড়াশি আক্রমণে দিশেহারা অভিষেক!
তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে বহুমুখী আইনি ও রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছেন। একদিকে দুর্নীতি ও ফৌজদারি মামলার জেরে ইডি ও সিআইডি সহ বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার তলব এবং প্রশাসনিক চাপের মুখে তিনি কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন, অন্যদিকে দলের অন্দরেও তৈরি হয়েছে তীব্র গৃহযুদ্ধ। আইনি জটিলতা থেকে শুরু করে দলের ভিতরের বিদ্রোহ—এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে তার নেতৃত্ব এখন বড় ধরনের হুমকির মুখে।
আইনি দিক থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিধানসভার সই জালিয়াতির ঘটনায় সিআইডি ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর ফের তলব করেছে। পাশাপাশি, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সোমবার তাকে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে ইডি। এছাড়াও উস্কানিমূলক বক্তব্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুমকির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। আমফানের ত্রাণ দুর্নীতি, সাড়ে সাত বছর আগের একটি প্রাণঘাতী হামলা এবং ত্রিপুরার খোয়াই আদালতের সশরীরে হাজিরার নির্দেশসহ একাধিক ঘটনায় তিনি অভিযুক্ত। প্রশাসনিকভাবে কলকাতা পুরসভা তার বাড়ির বেআইনি অংশ ভাঙার নোটিস পাঠানোসহ তার ২১টি সম্পত্তির সন্ধান শুরু করেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই দলের একাংশ বিধায়ক ও সাংসদ প্রকাশ্যে তার নেতৃত্বের বিরোধিতা করায় সাংগঠনিকস্তরে ফাটল চওড়া হচ্ছে। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই সমস্ত ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করে তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে তৃণমূলকে দমানো সম্ভব নয় বলে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।