অষ্টম বেতন কমিশন আপডেট: বাড়বে গ্র্যাচুইটি ও পেনশনের পরিমাণ, নয়া ফর্মুলায় লাভবান হবেন কর্মীরা
ভারতের অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে তৎপরতা বৃদ্ধির সাথে সাথে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ জোরালো দাবি উত্থাপিত হয়েছে। ন্যাশনাল কাউন্সিল-জেসিএম (NC-JCM) সম্প্রতি কমিশনের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে, যেখানে বেতন ও ভাতার আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাত্রার মান বজায় রাখাই এই প্রস্তাবনাগুলোর মূল লক্ষ্য।
বেসিক পে-র সঙ্গে মহার্ঘ ভাতা যুক্ত করার প্রস্তাব
কর্মচারী সংগঠনগুলোর প্রধান দাবি হলো, যখনই মহার্ঘ ভাতা (DA) ২৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে, তখনই তা মূল বেতনের সাথে একীভূত করতে হবে। বর্তমানে ডিএ ৬০ শতাংশে পৌঁছালেও তা মূল বেতনের সাথে যুক্ত নয়। যদি এই দাবি মেনে নেওয়া হয়, তবে মূল বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্র্যাচুইটি এবং অবসরের পরবর্তী আর্থিক সুবিধাগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া মূল্যবৃদ্ধির হিসাব সরকারি দরের বদলে বাজারদরের ভিত্তিতে করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ভাতা ও শহরভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসে বড় পরিবর্তন
স্মারকলিপিতে হাউজ রেন্ট অ্যালাউন্স (HRA) সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। বড় শহরগুলোর (X ক্যাটাগরি) জন্য মূল বেতনের ৪০ শতাংশ, মাঝারি শহরের জন্য ৩৫ শতাংশ এবং ছোট শহরের জন্য ৩০ শতাংশ এইচআরএ দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি যাতায়াত ভাতা, নার্সিং ভাতা এবং পোশাক ভাতার মতো অন্যান্য সুবিধাগুলো বর্তমানের তুলনায় তিন গুণ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে সরকারি কোষাগারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হলেও কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। এখন দেখার বিষয়, অষ্টম বেতন কমিশন এই বিশাল চাহিদার কতটুকু গ্রহণ করে এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সরকারি কর্মীদের জন্য কী সুখবর নিয়ে আসে।
এক ঝলকে
- মহার্ঘ ভাতা (DA) ২৫ শতাংশ হলেই তা মূল বেতনের সাথে যুক্ত করার জোরালো দাবি।
- এইচআরএ বা বাড়ি ভাড়া ভাতা শহরভেদে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব।
- যাতায়াত ও নার্সিং সহ বিভিন্ন সাধারণ ভাতা তিন গুণ বৃদ্ধির সুপারিশ।
- মূল্যস্ফীতির সঠিক প্রভাব বুঝতে প্রতি ৬ মাস অন্তর ডিএ পর্যালোচনার প্রস্তাব।