সূর্য ডুবলেই কেন জনমানবহীন হয়ে যায় ৯০০ মন্দিরের এই রহস্যময় পাহাড়!
গুজরাটের পালিতানা শহরের কাছে অবস্থিত শত্রুঞ্জয় পাহাড় জৈন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান তীর্থক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৯০০টি শ্বেতমর্মর পাথরের মন্দির নিয়ে গড়ে ওঠা এই পাহাড়ি এলাকাটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মন্দির কমপ্লেক্স। তবে এই স্থানের একটি সুপ্রাচীন ও কঠোর নিয়ম একে অনন্য করে তুলেছে—সূর্যাস্তের পর এখানে কোনো মানুষের অবস্থান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। গোধূলির আলো মিলিয়ে যাওয়ার আগেই সকল পুণ্যার্থী, পর্যটক ও মন্দিরের সেবায়েতদের পাহাড় থেকে নেমে আসতে হয়।
পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছাতে পুণ্যার্থীদের প্রায় ৩,৫০০ থেকে ৩,৮০০টি পাথরের সিঁড়ি অতিক্রম করতে হয়, যা ভক্তদের ধৈর্য ও অধ্যাবসায়ের এক পরীক্ষা। সূর্যাস্তের পর মানুষশূন্য হয়ে যাওয়া এই পাহাড় নিয়ে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক বিশ্বাস। জৈন দর্শনে বিশ্বাস করা হয়, রাতের বেলা এই পবিত্র স্থানটি দেবদূত ও অদৃশ্য আত্মাদের আরাধনার জন্য সংরক্ষিত। এছাড়া পরম অহিংসা পালনের অংশ হিসেবে, অন্ধকারে হাঁটার সময় যেন কোনো ক্ষুদ্র কীটপতঙ্গ মানুষের পায়ে পিষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্রায় ৯০০ বছর ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা রক্ষিত হয়ে আসছে।