তৃণমূলে বেনজির ফাটল, বিধানসভায় মুখোমুখি স্বামী-স্ত্রী!
বিধানসভার অন্দরে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই চূড়ান্ত রূপ নিল। দলের বিধায়কদের প্রকাশ্য বিভাজন ও একে অপরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের জেরে শাসক শিবিরে তৈরি হয়েছে আড়াআড়ি ফাটল। বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধিবেশনে এই ভাঙনের চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির এবং অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত কালীঘাটপন্থী শিবিরের বিধায়করা আলাদাভাবে বসেন। বিধানসভার মোট ৮০ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে ৩৮ জন ফিরহাদ হাকিমসহ বিদ্রোহী শিবিরে এবং ১৪ জন বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও মদন মিত্রদের সঙ্গে কালীঘাটপন্থী শিবিরে অবস্থান নিয়েছেন। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ছাড়ার প্রেক্ষিতে তাঁর স্ত্রী ও বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত শিবিরেই আসন গ্রহণ করেছেন।
এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সূত্রপাত মূলত বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করলেও, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন দাবি করে ওই পদে বসেন। দলবিরোধী কাজের জন্য তাঁকে বহিষ্কার করা হলেও, কলকাতা হাইকোর্ট কোনো অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ না দেওয়ায় আগামী ২৮ জুলাই পর্যন্ত ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতার দায়িত্বে থাকছেন। বিদ্রোহীদের দাবি, বর্তমানে তাঁদের পক্ষে বিধায়ক সংখ্যা বেড়ে ৬৫ হয়েছে এবং তাঁরাই প্রকৃত তৃণমূল। এই পরিস্থিতির ফলে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।