জোড়াফুল কি মমতার হাতেই থাকবে নাকি বিদ্রোহীদের, সুপ্রিম কোর্টের সেই ৩টি ঐতিহাসিক রায়ে লুকিয়ে বড় চমক!
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে। দলের ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ এনসিপিআই-এর সাথে একীভূত হওয়ার ঘোষণা দিয়ে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে দাবি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলী ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন এই গোষ্ঠীর দলত্যাগ এবং দলীয় প্রতীক দখলের প্রচেষ্টার ফলে আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়েছে, যার চূড়ান্ত ফয়সালা এখন নির্বাচন কমিশন এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনো আইনসভা দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য অন্য কোনো দলে মার্জ হলে তারা আইনি অযোগ্যতার হাত থেকে রেহাই পেতে পারেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের সুভাষ দেশাই, মহাচন্দ্র প্রসাদ সিং এবং রবি নায়েক মামলার ঐতিহাসিক রায়গুলো ইঙ্গিত দেয় যে, আইনসভার সদস্যসংখ্যাই দলের মালিকানার চূড়ান্ত মাপকাঠি নয়। নির্বাচনী প্রতীক বন্টনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন বিধিবদ্ধ তিনটি পরীক্ষার—আইনসভা সংখ্যাগরিষ্ঠতা, সাংগঠনিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং দলের সংবিধান—মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এমতাবস্থায়, বিবাদ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কমিশন দলের নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক সাময়িকভাবে ফ্রিজ বা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তও নিতে পারে।