জ্বালানি সংকট রুখতে সরকারের কড়া পদক্ষেপ, সপ্তাহে একদিন নামবে না ভিভিআইপি গাড়ি!

বিশ্বজুড়ে ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে তৈরি হওয়া তীব্র জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতেও। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে ‘নো ভেহিকেল ডে’। এই বিশেষ দিনে মন্ত্রী, সাংসদ এবং বিধায়কসহ সমস্ত জনপ্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত গাড়ি বা সরকারি কনভয় ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

গণপরিবহন ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াতে গুরুত্ব

নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, সপ্তাহে নির্দিষ্ট একদিন জনপ্রতিনিধিদের বাধ্যতামূলকভাবে বাস, ট্রেন বা মেট্রোর মতো গণপরিবহন ব্যবহার করতে হবে। তবে জরুরি প্রয়োজনে তারা ইলেকট্রিক গাড়ি ব্যবহারের অনুমতি পাবেন। সরকার থেকে সাইক্লিং এবং কার-পুলিং বা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে গাড়ি ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে জ্বালানির অপচয় রোধে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিজের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যাও ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন, যা অন্যান্য মন্ত্রী ও আমলাদের জন্যও কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল বৈঠক ও প্রশাসনিক সংস্কার

জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং যাতায়াত কমাতে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ ও অনলাইন মিটিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে লখনউ। সরকারি সচিবালয় এবং ডিরেক্টরেটের যাবতীয় মিটিংয়ের অন্তত অর্ধেক অংশ অনলাইনে সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই পদক্ষেপের ফলে যাতায়াত খরচ ও জ্বালানি—উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে সাশ্রয় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

উত্তরপ্রদেশের এই সাহসী পদক্ষেপের পর এখন পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য রাজ্যগুলিও একই পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। মূলত বিশ্ববাজারে তেলের আকাশছোঁয়া দাম এবং সরবরাহের ঘাটতি মোকাবিলা করতেই ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কাঠামোতে এই বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি স্তরে বিলাসিতা কমবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গণপরিবহন ব্যবহারের প্রবণতা বাড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *