বেতন ফেরানোর নির্দেশে দিশেহারা চাকরিহারারা, জেলে যাওয়ার আর্জি!
এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আদালতের নির্দেশে চাকরি খোয়ানোর পর এবার বেতন ফেরানোর চাপে চরম সংকটে পড়েছেন কয়েক হাজার তথাকথিত ‘অযোগ্য’ প্রার্থী। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করায় বিপাকে পড়েছেন উত্তরবঙ্গের কয়েকশ গ্রুপ-ডি কর্মী ও শিক্ষক। প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দেনার বোঝা মাথায় নিয়ে শিলিগুড়ির জনৈক চাকরিহারা দিব্যেন্দু চাকি কান্নায় ভেঙে পড়ে জানিয়েছেন, টাকা ফেরানোর বদলে তাকে বরং জেলের ভাত খাওয়ানো হোক।
২০১৬ সালের প্যানেলভুক্ত হয়ে ২০১৮ সালে শিলিগুড়ির নেতাজি হাই স্কুলে গ্রুপ-ডি পদে যোগ দিয়েছিলেন দিব্যেন্দু। তৎকালীন বিচারপতির নির্দেশে চাকরি যাওয়ার পর ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে তিনি আর স্কুলে যেতে পারছেন না। বর্তমানে একটি বেসরকারি সংস্থায় স্বল্প বেতনের কাজ করে সংসার চালালেও, বিপুল পরিমাণ সরকারি টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ তার জীবনে অন্ধকার নামিয়ে এনেছে। তার দাবি, ওএমআর শিট জমা দিলেও কেন তাকে ‘দাগি’ তালিকায় রাখা হলো তা তার অজানা।
বিপাকে কয়েক হাজার চাকরিহারা
রাজ্য জুড়ে প্রায় ১৮০৬ জন শিক্ষক এবং ৩৫০ জন গ্রুপ-ডি কর্মীকে পর্যায়ক্রমে বেতন ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা দপ্তর থেকে জেলাশাসকদের কাছে এ বিষয়ে দ্রুত রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ আসায় জেলা স্তরে তৎপরতা শুরু হয়েছে। দিব্যেন্দুর মতো অনেক চাকরিহারা প্রার্থীর অভিযোগ, সরকারের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ প্রার্থীদের। যেখানে রাঘববোয়ালরা ধরাছোঁয়ার বাইরে, সেখানে প্রান্তিক কর্মীদের ওপর এই আর্থিক বোঝা চাপানোকে তারা ‘অমানবিক’ বলে দাবি করছেন।
প্রশাসনের তৎপরতা ও প্রভাব
পূর্বতন সরকার টাকা ফেরতের বিজ্ঞপ্তি দিলেও প্রক্রিয়াটি কার্যকর করেনি। তবে বর্তমান প্রশাসনের নির্দেশে জেলাশাসকরা এখন সক্রিয়। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে একদিকে যেমন দুর্নীতির টাকা পুনরুদ্ধারের পথ প্রশস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে কয়েক হাজার পরিবারে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। চাকরিহারাদের একাংশের মতে, উপার্জিত অর্থ সংসার ও চিকিৎসার কাজে খরচ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে সেই বিশাল অংক ফেরত দেওয়া তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। এর ফলে ভবিষ্যতে সামাজিক ও আইনি জটিলতা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।