লকডাউনেও রেস্তোরাঁয় কোটি টাকার ব্যবসা! সুজিত বসুর বিপুল আর্থিক লেনদেন ঘিরে ঘনীভূত রহস্য

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর গ্রেফতারির পর একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, করোনা মহামারির আবহে যখন দেশজুড়ে কঠোর লকডাউন চলছিল এবং সমস্ত হোটেল-রেস্তোরাঁ কার্যত বন্ধ ছিল, সেই সময়েও সুজিত বসুর মালিকানাধীন চাইনিজ রেস্তোরাঁটি ১ কোটি ১১ লক্ষ টাকার ব্যবসা করেছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই আদালতে প্রশ্ন তুলেছে ইডি।
সন্দেহজনক লেনদেন ও ইডির দাবি
তদন্তকারীদের অভিযোগ, লকডাউনের সময় সাধারণ জনজীবন স্তব্ধ থাকলেও প্রাক্তন মন্ত্রীর রেস্তোরাঁ ও সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলিতে কোটি কোটি টাকা জমা পড়েছে। ইডির আইনজীবীর মতে, এটি নিছক ব্যবসায়িক মুনাফা নয়, বরং নিয়োগ দুর্নীতির কালো টাকা সাদা করার একটি মাধ্যম বা ‘মানি লন্ডারিং’ হতে পারে। শুধুমাত্র রেস্তোরাঁই নয়, সুজিত বসু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৬৮ লক্ষ, ১ কোটি ৭৫ লক্ষ এবং ১ কোটি ৭৯ লক্ষ টাকার মতো একাধিক বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনের হদিস মিলেছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। এছাড়া তদন্ত এড়াতে দুটি ‘শেল কোম্পানি’ তৈরি করার অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
তদন্তের প্রভাব ও আদালতের নির্দেশ
ইডির অভিযোগ অনুযায়ী, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় প্রায় ১৫০ জনকে বেআইনিভাবে নিয়োগের ঘটনায় সুজিত বসুর সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হওয়া এবং সাক্ষীদের প্রভাবিত করার আশঙ্কায় তাঁকে হেফাজতে নেওয়া জরুরি ছিল বলে আদালতে জানানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সঠিক সহযোগিতা না করা এবং বারবার সমন এড়ানোর বিষয়টিও বিচারকের নজরে আনা হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আদালত সুজিত বসুকে ১০ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই বিপুল অংকের আর্থিক অসঙ্গতির উৎস এবং নিয়োগ দুর্নীতির শিকড় পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হবে।