কলকাতা পুরসভায় অভাবনীয় গেরুয়া ঝড়, চাপে শাসকদল
কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডে বিধানসভা ভোটের সাম্প্রতিক ফলাফল বিশ্লেষণে এক চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শহরের অধিকাংশ ওয়ার্ডে বিজেপি এগিয়ে থাকায় রীতিমতো ‘গেরুয়া ঝড়’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই ফলাফল কলকাতার দীর্ঘদিনের চেনা রাজনৈতিক সমীকরণকে ওলটপালট করে দিতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
তৃণমূলের দুর্গে ধস ও বিজেপির উত্থান
বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট যে, কলকাতা পুরসভার শতাধিক ওয়ার্ডে বিজেপি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। একদা তৃণমূল কংগ্রেসের নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার একাধিক ওয়ার্ডে এবার শাসকদল পিছিয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উত্তর কলকাতায় গেরুয়া শিবিরের অগ্রগতি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অবাক করেছে। সংযুক্ত এলাকাগুলোতেও বিজেপির লিড লক্ষ্য করা গেছে, যা আগামী পুরভোটের আগে ঘাসফুল শিবিরের জন্য বড়সড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পুরভোটের আগে নতুন সমীকরণ
চলতি বছরের ডিসেম্বরেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে বিধানসভা ভিত্তিক এই ওয়ার্ডওয়াড়ি লিড শহর কলকাতায় রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে পুরসভায় তৃণমূলের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও, সাধারণ মানুষের সাম্প্রতিক ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রবণতা সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। ২০২১ সালের তুলনায় শাসকদলের লিড যেমন কমেছে, তেমনই অনেক ওয়ার্ডে বিজেপি প্রধান শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে।
পরিবর্তনের ইঙ্গিত ও রাজনৈতিক প্রভাব
তৃণমূল কংগ্রেস কিছু নির্দিষ্ট পকেটে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে পারলেও সামগ্রিক চিত্রে তারা অনেকটাই কোণঠাসা। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা আগামী পুরভোটে বজায় থাকলে কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক ক্ষমতার হাতবদল হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। শহরের নাগরিক পরিষেবা, ফুটপাত দখল এবং স্থানীয় নানা সমস্যার প্রভাব ইভিএমে প্রতিফলিত হতে পারে। ফলে এই ফলাফলকে হাতিয়ার করে বিজেপি যেমন ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তেমনই ঘর গোছাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে শাসকদল। সব মিলিয়ে কলকাতার মসনদ ধরে রাখা এবং দখলের লড়াই এখন তুঙ্গে।