জ্বালানি সঙ্কটে প্রধানমন্ত্রীর বেনজির পদক্ষেপ, নিজের কনভয়ে বড় কাটছাঁট

জ্বালানি সঙ্কটে প্রধানমন্ত্রীর বেনজির পদক্ষেপ, নিজের কনভয়ে বড় কাটছাঁট

দেশে বাড়তে থাকা জ্বালানি সঙ্কট এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের আকাশছোঁয়া দামের মধ্যে দেশবাসীকে সংযমের বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে কেবল পরামর্শ দিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি তিনি, ব্যক্তিগত দৃষ্টান্ত স্থাপনে নিজের নিরাপত্তা কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা একধাক্কায় অর্ধেক করার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বহরে এখন থেকে পেট্রল-ডিজেলের বদলে বৈদ্যুতিক বা ইলেকট্রিক গাড়ির (ইভি) ব্যবহারে সর্বোচ্চ জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই কড়া নির্দেশের পর কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা এসপিজি (SPG) দ্রুত পরিবর্তন কার্যকর করতে শুরু করেছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় যাতে নিরাপত্তার কোনো আপস না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। বিশেষ বিষয় হলো, ইভি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন গাড়ি না কিনে বিদ্যমান ব্যবস্থাকেই ঢেলে সাজানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের পরপরই বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরাও তাঁদের কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে ব্যয়ের লাগাম টানতে শুরু করেছেন।

সাশ্রয় ও দূরদর্শী পরিকল্পনার নেপথ্যে

মূলত ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশে জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে যাতে টান না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই এই ‘সাশ্রয়ী নীতি’ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের শীর্ষস্তর থেকে এমন কৃচ্ছ্রসাধন সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইতিমধ্যেই অনেক মন্ত্রী এসকর্ট ভ্যাহিকেল ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা দেশজুড়ে এক নতুন প্রশাসনিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দেশবাসীর প্রতি একগুচ্ছ পরামর্শ

হায়দরাবাদের এক সভায় প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতি রক্ষায় দেশবাসীকে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংযম পালনের অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী, জ্বালানি বাঁচাতে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে মেট্রো, কারপুলিং বা ইভি ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমাতে আগামী এক বছরের জন্য বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত রাখা এবং সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিক সারের বদলে প্রাকৃতিক চাষ এবং পণ্য পরিবহনে রেল পরিষেবার ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। সামগ্রিকভাবে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *