মন্ত্রিসভায় বিদ্রোহের মুখে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার, পদত্যাগে নারাজ কিয়ের!

ব্রিটেনের রাজনীতিতে নাটকীয় মোড় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের ওপর বাড়ছে পদত্যাগের পাহাড়প্রমাণ চাপ। মঙ্গলবার রাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের জুনিয়র মন্ত্রী জুবাইর আহমেদের ইস্তফার মাধ্যমে স্টারমার মন্ত্রিসভা থেকে মোট চারজন সদস্য বিদায় নিলেন। এর আগে স্থানীয় সরকার, ধর্ম ও কমিউনিটি বিষয়ক মন্ত্রী মাইতা ফাহনবুল্লেহ পদত্যাগ করে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর ব্যর্থতার দিকে আঙুল তোলেন। সরকারের ওপর মানুষের আস্থা হারানোর অভিযোগে তিনি স্টারমারকে দ্রুত সরে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। মন্ত্রীদের পাশাপাশি ৭০ জন সংসদ সদস্যের যৌথ বিবৃতি এবং ৮৬ জন লেবার এমপির অনাস্থা প্রকাশের ফলে স্টারমারের নেতৃত্ব এখন খাদের কিনারায়।
দলীয় বিভাজন ও নেতৃত্বের সংকট
লেবার পার্টির ভেতরে স্টারমারের ইস্তফা নিয়ে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে দলের জয় নিশ্চিত করতে হলে এখনই নতুন নেতৃত্বের হাতে ব্যাটন তুলে দেওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নাম সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। যদিও স্টারমার পন্থী নেতারা এখনো তাঁর পাশেই আছেন, তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভরাডুবি এবং দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্রোহীদের পাল্লা ক্রমেই ভারী হচ্ছে।
বিদ্রোহের মুখে স্টারমারের কঠোর অবস্থান
প্রবল চাপের মুখেও প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার পদ না ছাড়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, এই মুহূর্তে নেতৃত্ব পরিবর্তন করলে দল ও সরকারে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। দেশের অর্থনীতি মেরামতের জন্য তিনি আরও সময় এবং সুযোগ দাবি করেছেন। ব্রিটিশ সংসদীয় রীতি অনুযায়ী ২০ শতাংশ এমপি অনাস্থা জানালে নেতৃত্বের পরিবর্তন অনিবার্য হলেও, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্রোহীরা সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তবে পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে তাতে অন্তর্বর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা যেমন উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, তেমনি রাজা তৃতীয় চার্লসের অনুমতিক্রমে রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর পথে হাঁটতে হতে পারে ব্রিটেনকে।