‘খুব খারাপ সময়’ কার? হিমন্তর মন্তব্যে কেন রহস্য বাড়ালেন শুভেন্দু!
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বার হিমন্ত বিশ্বশর্মার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি। গুয়াহাটির এই অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি এবং দুই নেতার সোশ্যাল মিডিয়া বার্তা নতুন এক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। হিমন্ত বিশ্বশর্মা ও শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যেকার এই সংলাপে ‘ওদের দুঃসময়’ শব্দটি ব্যবহার করার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘খুনসুটি’ আদতে কোনো বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপের পূর্বাভাস কি না, তা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে।
অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে কঠোর বার্তা
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘ওদের জন্য খারাপ সময় আসছে।’ সেই বার্তার সূত্র ধরে শুভেন্দু অধিকারী রসিকতার ছলে উত্তর দেন যে, দুঃসময় কাদের জন্য তা আন্দাজ করা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই নেতার নিশানায় স্পষ্টতই অনুপ্রবেশকারী এবং পূর্বতন তোষণ রাজনীতির কারবারিরা রয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারী এদিন সরাসরি জানিয়েছেন, অসম ও ত্রিপুরা যেভাবে অনুপ্রবেশ সমস্যা মোকাবিলা করেছে এবং সীমান্ত সুরক্ষিত করেছে, পশ্চিমবঙ্গও এখন সেই পথেই হাঁটবে।
বাংলায় কি তবে অসমের ছায়া?
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উন্নয়ন ও সুরক্ষা মডেলের কথা। তিনি অভিযোগ করেছেন, অতীতে বাংলায় সীমান্ত সুরক্ষায় অসহযোগিতা করা হয়েছে, এমনকি বিএসএফ-কে জমিও দেওয়া হয়নি। তবে বর্তমানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অসমের মতোই কড়া হাতে অনুপ্রবেশ বন্ধ করা এবং জাতীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য হতে চলেছে। এই প্রেক্ষাপটে দুই মুখ্যমন্ত্রীর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট আদতে এনআরসি বা ওই জাতীয় কোনো কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে জল্পনা। অসমের মতো বাংলাতেও অনুপ্রবেশমুক্ত করার লক্ষ্যে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা রাজ্যের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক মানচিত্রে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।