বিলাসিতায় রাশ টানতে সোনার আমদানি শুল্ক বাড়াল কেন্দ্র
দেশের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখতে এবং টাকার ক্রমাগত পতন রুখতে সোনা ও রুপোর আমদানি শুল্কে বড়সড় বদল আনল কেন্দ্রীয় সরকার। গত সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোনা কেনা নিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেছিলেন। সেই বার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই একধাক্কায় দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানো হলো এই মূল্যবান ধাতুর আমদানি শুল্ক। কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, সোনা ও রুপোর কার্যকরী আমদানি শুল্ক এখন থেকে ১৫ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে, যা আগে ছিল মাত্র ৬ শতাংশ।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১০ শতাংশ বেসিক কাস্টমস ডিউটি এবং ৫ শতাংশ এগ্রিকালচার ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেস মিলিয়ে এই ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হচ্ছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো সোনা আমদানিতে লাগাম টানা এবং ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার মান স্থিতিশীল রাখা।
অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষার লড়াই
ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণ ব্যবহারকারী দেশ। দেশের চাহিদার সিংহভাগই আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। কিন্তু জ্বালানি তেলের মতো সোনা আমদানিতেও বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা বা ডলার খরচ করতে হয়। সম্প্রতি বিশ্ব গোল্ড কাউন্সিলের রিপোর্টে দেখা গেছে, শেয়ার বাজারে অস্থিরতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে সোনায় বিনিয়োগের প্রবণতা বহুগুণ বেড়েছে, বিশেষ করে গোল্ড ইটিএফ-এ বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ১৮১ শতাংশ। এই বিপুল চাহিদা মেটাতে গিয়ে বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারে টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাজার ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি এক জনসভায় পেট্রল, ডিজেল ও সোনা কেনার ক্ষেত্রে দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এমনকি আগামী এক বছর বিয়ের জন্য সোনা না কেনারও আবেদন জানান তিনি। মূলত আমদানি খরচ সামলাতে অতিরিক্ত ডলারের ব্যয় কমানোই তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, একধাক্কায় আমদানি শুল্ক এতটা বৃদ্ধির ফলে ঘরোয়া বাজারে সোনা ও রুপোর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। তবে সরকার আশা করছে, এর ফলে সোনা আমদানিতে ঘাটতি দেখা দেবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয় বাড়াতে সাহায্য করবে।