এক ঘণ্টা প্রস্রাব চেপে রাখলে কি শরীরের বড় ক্ষতি হয়! যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
দীর্ঘ ভ্রমণ কিংবা কর্মব্যস্ততার মাঝে অনেক সময় বাধ্য হয়েই আমাদের প্রস্রাব চেপে রাখতে হয়। সাময়িকভাবে এটি তেমন ক্ষতিকর মনে না হলেও, শরীরের ভেতরে এর নির্দিষ্ট কিছু প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মূত্রথলি সাধারণত ৩৫০ থেকে ৫০০ মিলিলিটার পর্যন্ত তরল ধারণ করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশেষ প্রয়োজনে এক ঘণ্টার জন্য প্রস্রাব আটকে রাখলে তাৎক্ষণিক কোনো বড় বিপদ না ঘটলেও এটি শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায়।
শরীরের ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব
যখন কেউ এক ঘণ্টা প্রস্রাব চেপে রাখেন, তখন তার মূত্রথলির পেশিগুলো বাড়তি তরল ধারণের জন্য প্রসারিত হতে থাকে। এর ফলে তলপেটে চাপ সৃষ্টি হয় এবং তীব্র অস্বস্তি বা ব্যথার উদ্রেক হতে পারে। একইসঙ্গে মস্তিষ্ক বারবার প্রস্রাব ত্যাগের সংকেত পাঠাতে থাকে, যার ফলে মানুষের কাজে মনোযোগ নষ্ট হয় এবং শারীরিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। এক ঘণ্টা আটকে রাখলে সাধারণত মূত্রনালীর সংক্রমণ বা ইউটিআই (UTI) হওয়ার ঝুঁকি কম থাকলেও, অস্বস্তি এড়ানো সম্ভব হয় না।
দীর্ঘমেয়াদী অভ্যাসের ভয়াবহ পরিণতি
সাময়িক চাপ সামলানো গেলেও প্রস্রাব আটকে রাখাকে অভ্যাসে পরিণত করা অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা। দীর্ঘ সময় নিয়মিত প্রস্রাব চেপে রাখলে মূত্রথলির পেশিগুলো স্থায়ীভাবে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে মূত্রথলি পুরোপুরি খালি না হওয়ার সমস্যা দেখা দেয়, যা মূলত সংক্রমণের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এছাড়া দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব জমে থাকলে ইউরিনের ভেতর থাকা খনিজ পদার্থগুলো জমাট বেঁধে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। মূত্রথলির ভেতরে থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলো বংশবিস্তারের জন্য পর্যাপ্ত সময় পায়, যা থেকে জটিল প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি প্রস্রাবের এই বাড়তি চাপ কিডনির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে শরীরের রেচন প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতা নিশ্চিত করতে এবং কিডনি ও মূত্রথলির কার্যকারিতা বজায় রাখতে প্রস্রাবের তাগিদ অনুভব করার সঙ্গে সঙ্গেই টয়লেট ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।