স্বনির্ভরতার নতুন দিগন্ত খুলে দিতে রাজ্যে শুরু হলো প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে তৎপর হয়েছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো রাজ্যে দ্রুত কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে ‘প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা’। মূলত প্রান্তিক স্তরের শিল্পী ও কারিগরদের আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে স্বনির্ভর করে তোলাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তার মেলবন্ধন
এই প্রকল্পের আওতায় কারিগরদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীরা ৫ থেকে ৭ দিনের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনে ১৫ দিন বা তার বেশি সময়ের উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। বিশেষ দিকটি হলো, প্রশিক্ষণ চলাকালীন প্রত্যেককে প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে স্টাইপেন্ড প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে মিলবে সরকারি শংসাপত্র ও পরিচয়পত্র, যা তাঁদের পেশাদার পরিচিতি নিশ্চিত করবে। এছাড়া আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ই-ভাউচারের মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকা এবং ব্যবসা প্রসারের জন্য অত্যন্ত স্বল্প সুদে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
কারা পাবেন এই সুবিধা
প্রকল্পটি মূলত ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ঐতিহ্যবাহী পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষের জন্য। কুমোর, কামার, স্বর্ণকার, মালাকার, মিস্ত্রি ও মুচি-সহ মোট ১৮টি বিভিন্ন পেশার কারিগররা এখানে আবেদনের যোগ্য। তবে শর্ত থাকে যে, একটি পরিবার থেকে কেবল একজনই এই সুবিধা পাবেন এবং আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের কেউ সরকারি চাকুরিজীবী হতে পারবেন না। এছাড়া গত পাঁচ বছরে অন্য কোনো সরকারি ঋণ প্রকল্প থেকে সুবিধা নিয়েছেন এমন ব্যক্তিরা এই আবেদনের আওতার বাইরে থাকবেন।
আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রভাব
ইচ্ছুক প্রার্থীরা অনলাইন ও অফলাইন—উভয় পদ্ধতিতেই আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে অফিশিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে আধার কার্ড ও প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। অন্যদিকে, নিকটস্থ কমন সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে বায়োমেট্রিক অথেন্টিফিকেশনের মাধ্যমে অফলাইনেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে গ্রাম ও শহরের ক্ষুদ্র কারিগরদের আর্থিক সংকট দূর হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে কর্মসংস্থানের নতুন জোয়ার আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে কুটির শিল্পের পুনরুজ্জীবনে এই প্রকল্প অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।