পালাবদলে শেষ হলো এক অধ্যায়ের, রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন পদ থেকে ইস্তফা দিলেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথেই প্রশাসনিক স্তরে শুরু হয়েছে বড় রদবদল। সেই ধারায় এবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন পদ থেকে পদত্যাগ করলেন বিশিষ্ট লেখিকা ও টলিউড প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। মঙ্গলবার রাতে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন। চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত তাঁর পদের মেয়াদ থাকলেও, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ায় মেয়াদ শেষের আগেই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন।
নেপথ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অভ্যন্তরীণ চাপ
তৃণমূল কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ২০২৩ সালের জুলাই মাসে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর এবং নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রকের দায়িত্বে অগ্নিমিত্রা পাল আসার পরেই তাঁর এই পদত্যাগ ছিল সময়ের অপেক্ষা। বিগত সরকারের আমলে কমিশনের বিভিন্ন কার্যকারিতা এবং বিশেষ কিছু ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছিল, এই পালাবদলের পর সেই চাপ আরও বৃদ্ধি পায়। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নৈতিক অবস্থান বজায় রাখতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু ও অনিষ্পন্ন বিতর্ক
ইস্তফার এই সিদ্ধান্তের পেছনে ওড়িশার তালসারিতে অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটি বিশেষ প্রভাব ফেলেছে। লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থার শুটিং চলাকালীন এই দুর্ঘটনার পর তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে টলিউডের একটি বড় অংশ সোচ্চার হয়েছিল। রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার সরাসরি অভিযোগ দায়ের করার পর থেকেই তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। সেই সময় তদন্তে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ এড়াতে তিনি একবার ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত পদে বহাল ছিলেন। তবে প্রশাসনের ক্ষমতার অলিন্দে রদবদল হতেই এবার চূড়ান্তভাবে সরে দাঁড়ালেন তিনি।
প্রশাসনিক ও সামাজিক প্রভাব
লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের এই ইস্তফার ফলে রাজ্য মহিলা কমিশনের শীর্ষ পদটি বর্তমানে শূন্য হলো। নারী সুরক্ষা ও অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে কমিশনের যে ধারাবাহিক কাজ চলছিল, নেতৃত্বহীনতায় তাতে সাময়িক স্থবিরতা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন সরকারের অধীনে কমিশনের পুনর্গঠন কীভাবে হবে এবং পরবর্তী চেয়ারপার্সন হিসেবে কার নাম উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে ওয়াকিবহাল মহলের। একইসাথে, রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর তদন্ত প্রক্রিয়ায় এই প্রশাসনিক পরিবর্তন কোনো নতুন মোড় আনে কি না, সেটিও এখন দেখার বিষয়।