টাকা চাইতেই চরম হুঁশিয়ারি তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসের, ভাইরাল অডিও ঘিরে বর্ধমানে শোরগোল
বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা পরাজিত প্রার্থী খোকন দাসের একটি কথিত অডিও ক্লিপ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এলাকার এক বাসিন্দা মন্দির সংস্কারের বকেয়া টাকা দাবি করায় তাঁকে রীতিমতো হুমকি দিয়েছেন এই নেতা। এমনকি নিজেকে ‘বিজেপি নেতা’ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার দাবিও শোনা গিয়েছে ওই অডিওতে। যদিও ভাইরালি হওয়া এই অডিওর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বকেয়া টাকা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত
ঘটনার মূলে রয়েছে বর্ধমান শহরের কঙ্কালেশ্বরী কালীমন্দির সংলগ্ন একটি মন্দির সংস্কারের কাজ। অভিযোগকারী বাসিন্দার দাবি, তৎকালীন বিধায়কের প্রতিশ্রুতি মতোই তিনি সংস্কারের কাজ করিয়েছিলেন। কিন্তু ভোট মিটে যাওয়ার পর বকেয়া টাকা চাইতে গেলে পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নেয়। ভাইরাল অডিওতে শোনা যাচ্ছে, টাকা চাওয়ায় ওই ব্যক্তিকে ধমক দিচ্ছেন খোকন দাস। তিনি বলছেন, “তৃণমূল কি হেরে যাওয়ার পর ঘরে ঢুকে গেছে ভেবেছিস?” এর পরপরই নিজেকে নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে উপস্থাপন করে তিনি বলেন, “মনে রাখিস, আমিই এখন বিজেপি নেতা।”
রাজনৈতিক প্রভাব ও পালটা দাবি
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে অস্বস্তি ও চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূলের পরাজিত প্রার্থীর এমন ভোলবদল এবং হুমকির বিষয়ে সরব হয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপি নেতা সৌম্যরাজ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কেউ নিজেকে ঘোষণা করলেই বিজেপি হওয়া যায় না। তবে একজন শ্রমিকের বকেয়া টাকা আটকে রাখা অত্যন্ত অনভিপ্রেত এবং ট্রাস্টের উচিত দ্রুত এর সমাধান করা।
অন্যদিকে, খোকন দাস পুরো বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে অডিওটি ভুয়ো। তাঁর মতে, এটি একটি ব্যক্তিগত ট্রাস্টের বিষয় এবং টাকা চাওয়ার পদ্ধতি নিয়ে তিনি কেবল বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের ফলাফল পরবর্তী এই ধরনের ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে দলবদল ও ব্যক্তিগত রেষারেষির এক জটিল চিত্র তুলে ধরছে, যা সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।