শুভেন্দুর বৈঠকে সিইও কেন, আইনি ব্যাখ্যায় তৃণমূলের তোপ দাগলেন মনোজ আগরওয়াল
নবান্নে নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের তৎকালীন সিইও তথা বর্তমান মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। সোমবারের ওই বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ‘বিজেপি-নির্বাচন কমিশন আঁতাঁতের’ অভিযোগ তোলা হলেও, মঙ্গলবার আইনি ধারা ও পদের গুরুত্ব উল্লেখ করে তার কড়া জবাব দিয়েছেন খোদ মনোজ আগরওয়াল। তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা প্রশ্নের প্রেক্ষিতে তিনি স্পষ্ট জানান, নিয়ম মেনেই তিনি সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে উপস্থিতির ত্রিমুখী কারণ
মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যসচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মনোজ আগরওয়াল নিজের অবস্থানের স্বপক্ষে তিনটি প্রধান যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রথমত, সিইও পদাধিকার বলে এখনও রাজ্যের নির্বাচন দপ্তরের সচিব। দ্বিতীয়ত, তিনি এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের সবচেয়ে সিনিয়র অফিসার এবং তৃতীয়ত, তিনি আইএএস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী যখন সমস্ত দপ্তরের সচিবদের নিয়ে বৈঠক করেন, তখন রাজ্যের নির্বাচন দপ্তরের সচিব হিসেবে সেখানে থাকাটা তাঁর আইনসম্মত অধিকার ও কর্তব্য।
মুখ্যসচিব হিসেবে নিয়োগ ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা
তৃণমূলের তোলা অভিযোগের ভিত্তি খণ্ডন করে তিনি আরও জানান, জেলাশাসকদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বিতীয় বৈঠকের আগেই মুখ্যসচিব হিসেবে তাঁর ফাইলে সই হয়ে গিয়েছিল। যদিও নিয়োগের সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হতে সন্ধ্যা হয়েছিল, কিন্তু প্রশাসনিকভাবে তার আগেই তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। জেলাশাসকদের বৈঠকে সিইও হিসেবে তাঁর কোনো ভূমিকা না থাকলেও, হবু মুখ্যসচিব হিসেবে সেই প্রক্রিয়ায় তাঁর অংশগ্রহণ ছিল সম্পূর্ণ বিধিসম্মত।
এই ঘটনার ফলে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন উচ্চপদস্থ আমলার সরাসরি আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে রাজনৈতিক অভিযোগ খণ্ডন করার বিষয়টি নজিরবিহীন। মনোজ আগরওয়ালের এই অনমনীয় অবস্থান আগামী দিনে রাজ্য প্রশাসন ও বিরোধী দলের সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।