মেডিকেল প্রবেশিকায় বড়সড় ধাক্কা, প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে বাতিল নিট
দেশজুড়ে গত ৩ মে আয়োজিত নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষা শেষ পর্যন্ত বাতিল ঘোষণা করল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। সোমবার থেকেই এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জোরালো অভিযোগ উঠতে শুরু করে, যার রেশ পৌঁছেছে সংসদীয় রাজনীতি পর্যন্ত। রাজস্থানসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অনিয়মের তথ্যের ভিত্তিতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পুরো ঘটনার নেপথ্যে কোনো বড় চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিবিআইকে।
তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রাজস্থানে পরীক্ষার অন্তত এক মাস আগে কিছু পরীক্ষার্থীর হাতে একটি সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র পৌঁছে গিয়েছিল। রাজস্থান পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই সেটে থাকা ৪১০টি প্রশ্নের মধ্যে বিপুল সংখ্যক প্রশ্ন আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে। বিশেষ করে রসায়ন বিভাগের ১২০টি প্রশ্ন এবং সেগুলোর উত্তরের অপশনও ছিল অভিন্ন। অন্য একটি সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য তালিকার ২৮১টি প্রশ্নের মধ্যে ১৩৫টি প্রশ্ন হুবহু মূল পরীক্ষার প্রশ্নে পাওয়া গিয়েছে। এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
বিপাকে ২৩ লক্ষ পড়ুয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ
চলতি বছর প্রায় ২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থী এই ডাক্তারির প্রবেশিকায় অংশ নিয়েছিলেন। পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের জেরে দেশজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হলে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা কেন্দ্রের কড়া সমালোচনা করেন। পরিস্থিতি বিবেচনা করে এনটিএ জানিয়েছে, স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই ৩ মে’র পরীক্ষা বাতিল করা হচ্ছে। তবে নতুন করে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য পড়ুয়াদের আলাদা কোনো আবেদন বা ফি দিতে হবে না। আগের জমা দেওয়া ফি পরীক্ষার্থীদের ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হবে।
পরীক্ষার নতুন দিনক্ষণ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। পরীক্ষার্থীদের নিয়মিত অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে এনটিএ। নতুন করে অ্যাডমিট কার্ড ইস্যু করা হবে এবং তার ভিত্তিতেই ফের পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। একদিকে সিবিআই তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে কয়েক লক্ষ মেধাবী পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ ও পরিশ্রম এখন নতুন সূচির অপেক্ষায়।