সব সামাজিক প্রকল্প বজায় রাখার আশ্বাস শুভেন্দুর, শহিদ পরিবারগুলোর জন্য চাইলেন বিচার

সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম দিনের প্রশাসনিক বৈঠকের পর রাজ্যের সামাজিক প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বা ‘কন্যাশ্রী’-র মতো প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়ে যাবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে যে সংশয় ছিল, তা এক নিমেষে উড়িয়ে দিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগের সরকারের চালু করা কোনো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পই বন্ধ করা হবে না।

প্রকল্প বন্ধ নয়, হবে আধুনিকীকরণ

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আগে চালু থাকা সমস্ত সামাজিক প্রকল্প আগের মতোই বজায় থাকবে। আমরা নির্বাচনী প্রচারের সময়ও এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। কোনো প্রকল্প ১০ বছর আগের হোক বা ৩০ বছর আগের—তা বন্ধ হবে না।” তবে প্রকল্পগুলোকে আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে প্রশাসনিক সংস্কারের কথা জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা প্রকল্পগুলোর পোর্টাল আপডেট করব যাতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা কোনো বাধা ছাড়াই সরাসরি সুবিধা পান।” এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি কার্যত রাজ্যের মহিলা ও প্রান্তিক মানুষের দুশ্চিন্তা দূর করলেন।

৩২১ জন দলীয় কর্মীকে শ্রদ্ধা ও বিচারের প্রতিশ্রুতি

প্রশাসনিক আলোচনার পাশাপাশি এদিন আবেগঘন হয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক সংঘর্ষে প্রাণ হারানো বিজেপির ৩২১ জন কর্মীর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “বিজেপির অকালে ঝরে যাওয়া এই ৩২১ জনকে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছি এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছি। এই সরকার তাঁদের পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধ।” তিনি আরও যোগ করেন, এই পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পরিজন হত্যার বিচার চেয়ে আসছেন এবং নতুন সরকার সেই বিচার সুনিশ্চিত করবে।

উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারের পথে নতুন সরকার

শুভেন্দুর এই জোড়া বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে তিনি সামাজিক প্রকল্পগুলো চালু রেখে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন, অন্যদিকে দলের লড়াকু কর্মীদের প্রতি দায়বদ্ধতা দেখিয়ে সংগঠনের মনোবল চাঙ্গা করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “পুরোনো প্রকল্প বজায় রাখা এবং পুরোনো অন্যায়ের বিচার করা”—এই দুই কৌশলেই নবান্নে নিজের আধিপত্য মজবুত করতে চাইছেন শুভেন্দু অধিকারী।

নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব কেমন হবে? আপনার মতামত জানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *