চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় ঘোষণা শুভেন্দুর, সরকারি চাকরির বয়সের সময়সীমা বাড়ল ৫ বছর
রাজ্যের ক্ষমতায় বসেই শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বড়সড় উপহার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি চাকরিতে আবেদনের ঊর্ধ্বসীমা এক ধাক্কায় ৫ বছর বাড়িয়ে দিল নতুন বিজেপি সরকার। সোমবার নবান্নে নিজের প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকের পর এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলে রাজ্যের কয়েক লক্ষ চাকরিপ্রার্থী, যাঁরা বয়সের কারণে আবেদনের সুযোগ হারিয়েছিলেন, তাঁরা পুনরায় পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন।
অমিত শাহের বার্তার প্রতিফলন
এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি বক্তব্যের সূত্র টানেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনী প্রচারে অমিত শাহজি সঠিকভাবেই বলেছিলেন যে, ২০১৫ সালের পর পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরিতে সেভাবে কোনও নিয়োগ হয়নি। ফলে বহু যোগ্য ও শিক্ষিত যুবক-যুবতীর আবেদনের বয়স পেরিয়ে গিয়েছে। তাঁদের প্রতি সুবিচার করতেই আমরা আবেদনের বয়সসীমা ৫ বছর বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার আশ্বাস
কেবল বয়সের সময়সীমা বাড়ানোই নয়, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে গতিশীল ও স্বচ্ছ করার বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, বিগত সরকারের আমলে থমকে থাকা নিয়োগ দুর্নীতি কাটিয়ে দ্রুত স্বচ্ছতার সঙ্গে পরীক্ষা নেওয়া শুরু হবে। পিএসসি (PSC) এবং অন্যান্য নিয়োগকারী বোর্ডগুলোকে এই মর্মে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত পুলিশ, শিক্ষকতা এবং পঞ্চায়েত স্তরে যে হাজার হাজার শূন্যপদ পড়ে রয়েছে, সেগুলোতে দ্রুত নিয়োগ শুরু করাই নতুন সরকারের অগ্রাধিকার।
খুশির হাওয়া চাকরিপ্রার্থী মহলে
সরকারের এই ঘোষণায় রাজ্যজুড়ে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে খুশির হাওয়া বয়ে গিয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলনের পর বয়সের ছাড় মেলায় স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতায় আসার প্রথম দিনেই এই মাস্টারস্ট্রোক দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী যেমন একদিকে বেকার সমস্যার সমাধানের ইঙ্গিত দিলেন, তেমনই যুব সমাজের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা আরও মজবুত করলেন। নবান্নের প্রথম দিনেই এমন জনমুখী সিদ্ধান্ত নতুন সরকারের কার্যপদ্ধতির এক ইতিবাচক দিক বলেই মনে করা হচ্ছে।