বাংলায় বুলডোজার সংস্কৃতিতে ইতি, কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি কমিশনারের
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে উত্তরপ্রদেশ ঘরানার ‘বুলডোজার রাজনীতি’ নিয়ে কঠোর অবস্থান নিল লালবাজার। নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর বিভিন্ন এলাকায় জেসিবি বা বুলডোজার নিয়ে বিজয় মিছিল এবং ভাঙচুরের অভিযোগ আসতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মহানগরীতে জেসিবি নিয়ে কোনও প্রকার মিছিল করা যাবে না। এমনকি যারা এই সমস্ত যন্ত্রদানব ভাড়া দেবেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উত্তেজনা ও প্রশাসনের তৎপরতা
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউ মার্কেট এলাকায় হকারদের অস্থায়ী কাঠামো ভেঙে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগের তির বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের দিকে। এই ঘটনার পর জনমানসে আতঙ্ক তৈরি হলে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। কমিশনার জানান, অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে ইতিমধ্যেই ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজয় মিছিলের ক্ষেত্রেও আগাম অনুমতির বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কারণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব
মূলত রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েম এবং বিরোধী পক্ষকে তটস্থ রাখতেই এই ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’ আমদানির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে পুলিশের এই কঠোর বার্তা ও ধরপাকড় অভিযান বিশৃঙ্খলা থামানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারও বাংলায় অশান্তি রুখতে পুলিশ প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কড়া হাতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশের এই সক্রিয়তা একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ ফিরিয়ে আনবে, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর অতি-উচ্ছ্বাসে লাগাম টানবে বলে আশা করা হচ্ছে।