ভোট পরবর্তী রক্তপাত রুখতে মরিয়া কমিশন, ব্যর্থতায় কড়া শাস্তির মুখে পুলিশ কর্তারা!

ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া অশান্তি দমনে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করল নির্বাচন কমিশন। সোমবার থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে রাজনৈতিক সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও প্রাণহানির খবর আসতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি রুখতে পুলিশ সুপার (এসপি) ও পুলিশ কমিশনারদের সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিশন। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নিজ নিজ এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেই কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অশান্তি রুখতে কঠোর হুঁশিয়ারি

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, এলাকায় কোনো প্রকার হিংসা বা অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিটি থানার ওসি এবং এসপিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অবিলম্বে অশান্তিপ্রবণ এলাকায় টহলদারি শুরু করতে। শুধুমাত্র নির্দেশ নয়, প্রয়োজনে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দ্রুত গ্রেফতারির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এক থানার ওসি-র ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ কমিশন রাজ্য পুলিশের ডিজি ও মুখ্য সচিবের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। সেখানে সাফ জানানো হয়েছে, পুলিশ যদি সক্রিয় ভূমিকা পালন না করে, তবে দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করে আধিকারিকদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেবে কমিশন।

হিংসার গ্রাসে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীরা

নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল ও বিজেপি— উভয় শিবিরের পক্ষ থেকে একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। কোথাও দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে, আবার কোথাও কর্মীদের ওপর নৃশংস আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি প্রাণহানির ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কমিশনের এই কড়া অবস্থান মূলত পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা দূর করতে এবং জনমনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। এই কঠোর বার্তার পর জেলা প্রশাসনগুলো কতটা সক্রিয় হয় এবং হিংসার গ্রাফ কতটা নিম্নমুখী হয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *