শান্তির ভোটে ‘কেল্লাফতে’! কাজ মিটতেই গঙ্গাবক্ষে নৌকাবিহারে খোশমেজাজে কমিশনের কর্তারা
বাংলার লোকসভা নির্বাচন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল নির্বাচন কমিশন। দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা ও উত্তেজনার পালা শেষে মঙ্গলবার বিকেলে গঙ্গাবক্ষে নৌকাবিহারে মাতলেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইও) মনোজ আগরওয়াল, পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত এবং পুলিশ পর্যবেক্ষক এন কে মিশ্রা। মূলত শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ এবং বিশেষ কিছু কৌশলী পদক্ষেপে সাফল্য আসায় কমিশনের অন্দরে এখন খুশির হাওয়া।
বহুতল আবাসন ও ভোটের রেকর্ডে সাফল্যের চাবিকাঠি
শহরাঞ্চলের বহুতল আবাসনের বাসিন্দাদের ভোটদানে অনীহা দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তার কারণ ছিল কমিশনের কাছে। যানজট, দীর্ঘ লাইন এবং নিরাপত্তার অভাববোধের কারণে অনেকেই ভোটকেন্দ্র বিমুখ হতেন। এই বাধা কাটাতে এবার আবাসনের অভ্যন্তরেই বুথ করার অভিনব সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। রাজ্যে মোট ৮৭টি এমন বুথ তৈরি করা হয়েছিল, যার ফল মিলেছে হাতেনাতে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আবাসনের অভ্যন্তরে বুথ হওয়ায় ভোটদানের হার পূর্বের তুলনায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। রেনেসাঁ টাউনশিপে ৭৬ শতাংশ, স্পেস টাউন হাউজিং কমপ্লেক্সে ৯০ শতাংশ এবং হাইল্যান্ড গ্রিন হাউস কমপ্লেক্সে ভোট পড়েছে রেকর্ড ৯২ শতাংশ। বাসিন্দাদের এই অভূতপূর্ব সাড়ায় উৎসাহিত হয়ে ভবিষ্যতে এই ধরনের বুথের সংখ্যা আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে কমিশন।
গণনায় স্বচ্ছতা ও আগামীর লক্ষ্য
দক্ষিণ কলকাতার চারটি আসনের ভোট গণনা নিয়ে ওঠা যাবতীয় বিতর্ক উড়িয়ে দিয়েছে কমিশন। ডিইও দক্ষিণ কলকাতার রিপোর্ট উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে এবং নিয়ম মেনেই গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তি নেই বলেই দাবি তাদের। মূলত উদ্ভাবনী পরিকল্পনা এবং কড়া নজরদারির ফলেই এই নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তারা। আবাসিক এলাকায় বুথ বাড়ানোর এই মডেল আগামী দিনে নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে বড় প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।