সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধিতে সিলমোহর ক্যাবিনেটের এবং আরও চার জন বিচারক নিয়োগের লক্ষ্যে সংশোধনী বিল আনছে কেন্দ্র

নয়াদিল্লি ৬ মে, ২০২৬। দেশের বিচারব্যবস্থায় গতি আনতে এবং সুপ্রিম কোর্টের কাঁধ থেকে মামলার পাহাড়ের বোঝা কমাতে বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। সর্বোচ্চ আদালতে বিচারপতির সংখ্যা আরও চার জন বৃদ্ধি করার প্রস্তাব মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত হয়েছে। বর্তমান পরিকাঠামো অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে সুপ্রিম কোর্টে অনুমোদিত বিচারপতির সংখ্যা ৩৩। নতুন সংশোধনী কার্যকর হলে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৩৭।

সংশোধনী বিল ২০২৬-এর প্রস্তুতি

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই সিদ্ধান্তের পর এবার শীঘ্রই সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতির সংখ্যা) সংশোধনী বিল, ২০২৬’ পেশ করতে চলেছে। বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এটি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আইন মন্ত্রক সূত্রে খবর, বর্তমান সময়ে মামলার যে বিপুল চাপ সুপ্রিম কোর্টের ওপর রয়েছে, তা মোকাবিলা করার জন্যই এই অতিরিক্ত পদ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হচ্ছিল। সংসদীয় অনুমোদন পাওয়ার পরেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে।

কেন এই সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত?

সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বর্তমানে কয়েক হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বেঞ্চের শুনানি থেকে শুরু করে সাধারণ দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বর্তমান বিচারকদের। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, পর্যাপ্ত বিচারপতির অভাবে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বেঞ্চ গঠন করা সম্ভব হয় না, কারণ তখন দৈনন্দিন মামলার শুনানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই চার জন নতুন বিচারপতি নিয়োগের ফলে বেঞ্চ গঠনের ক্ষেত্রে আরও নমনীয়তা আসবে এবং মামলার নিষ্পত্তির হার বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ধারাবাহিক বৃদ্ধি

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠার সময় বিচারপতির সংখ্যা ছিল মাত্র ৮। পরবর্তীতে দেশের জনসংখ্যা ও মামলার জটিলতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বিভিন্ন সময় এই সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ১৯৭৭ সালে এই সংখ্যা ১৮ করা হয়, ১৯৮৬ সালে তা বাড়িয়ে ২৫ করা হয়েছিল। ২০০৯ সালে বিচারপতির সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০ করা হয় এবং সর্বশেষ ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৩ (প্রধান বিচারপতি ছাড়া) করা হয়েছিল। এবার ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা ৩৭ করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে।

বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা কমানোর লক্ষ্য

কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের কাছে ন্যায়বিচার পৌঁছানোর পথ আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক সময় বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকার কারণে বিচারপ্রার্থীরা হতাশ হয়ে পড়েন। বিচারপতির সংখ্যা বাড়লে বেঞ্চের সংখ্যাও বাড়ানো সম্ভব হবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে মামলার নিষ্পত্তির গতিতে। সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন আইনজ্ঞ মহলের একাংশ। তাঁদের মতে, বিচার বিভাগের ক্ষমতায়ন ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই সংশোধনী বিল এক নতুন মাইলফলক হতে চলেছে।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *