ভোট পরবর্তী হিংসার বলি বিজেপি কর্মী, নিউটাউনে তৃণমূল নেতার বাড়ি ভাঙচুর!
রাজ্যে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হতেই ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠল রাজনৈতিক হিংসা। মঙ্গলবার বিকেলে নিউটাউনের বালিগরি এলাকায় এক বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল স্থানীয় তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত নেতার বাড়ি ঘেরাও করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
পুরনো বিবাদ ও খুনের অভিযোগ
নিহত বিজেপি কর্মীর নাম মধু মণ্ডল। স্থানীয় সূত্রে খবর, অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা কমল মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল। নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীর জয়ের খবর এলাকায় পৌঁছাতেই সেই পুরনো শত্রুতা চরম আকার নেয়। অভিযোগ, মঙ্গলবার বিকেলে কমল মণ্ডল ও তাঁর অনুগামীরা মধুর উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। তাঁকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
উত্তপ্ত জনতা ও পুলিশের পদক্ষেপ
মধু মণ্ডলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। তাঁরা অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার বাড়ি ঘিরে ফেলে ভাঙচুর শুরু করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। উত্তেজনা প্রশমনে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং অভিযুক্ত কমল মণ্ডলকে আটক করা হয়। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ভোট পরবর্তী এই হিংসার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর জমি বিবাদ বা ব্যক্তিগত রেষারেষি রাজনৈতিক মোড়ক নেওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় টহলদারি চালানো হচ্ছে।