কলকাতায় এবার কি দলবদলের হিড়িক, তৃণমূল কাউন্সিলরদের গেরুয়া শিবিরে যোগদানের জল্পনা তুঙ্গে
রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে পালাবদলের ঢেউ আছড়ে পড়ার পর এবার খাস কলকাতায় শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল—সর্বত্র বিজেপির অভাবনীয় জয়ের পর এবার তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কলকাতাতেও ধস নামার ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে কলকাতার একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলরের বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা এখন শহরের রাজনৈতিক মহলে প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিপর্যস্ত তৃণমূল ও গেরুয়া শিবিরের উত্থান
সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরে পরাজিত হয়েছেন। রাসবিহারী, মানিকতলা, শ্যামপুকুর থেকে শুরু করে যাদবপুর ও বেহালা—সবর্ত্রই ফুটেছে পদ্মফুল। পরিসংখ্যান বলছে, কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে সিংহভাগ ওয়ার্ডেই এখন বিজেপির বড় লিড রয়েছে। যেখানে ২০২১ সালের পুরভোটে তৃণমূল ১৩৪টি আসনে জিতেছিল, সেখানে এবারের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বলছে, শহরের রাজনৈতিক রাশ কার্যত তৃণমূলের হাতছাড়া। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিজেদের অস্তিত্ব ও ওয়ার্ডের ক্ষমতা ধরে রাখতে ঘাসফুল শিবিরের অনেক কাউন্সিলরই এখন দলবদলের কথা ভাবছেন।
জল্পনার কেন্দ্রে বেহালা ও উত্তর কলকাতার কাউন্সিলররা
সবচেয়ে বেশি জল্পনা শুরু হয়েছে দুই বেহালা, মানিকতলা, জোড়াসাঁকো এবং টালিগঞ্জ এলাকার কাউন্সিলরদের নিয়ে। সূত্রের খবর, বেহালার দাপুটে কাউন্সিলর তারক সিং এবং তাঁর পরিবারের অন্য কাউন্সিলর সদস্যদের বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রবল গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। টিকিট না পাওয়া এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধ এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। এছাড়াও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের জীবন সাহা সহ বেশ কয়েকজন প্রাক্তন বিধায়ক ও কাউন্সিলরের নাম এই তালিকায় উঠে আসছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১০ সাল থেকে কলকাতা পুরসভা তৃণমূলের দখলে থাকলেও, আসন্ন পুরভোটে সেই আধিপত্য ধরে রাখা এখন কার্যত অসম্ভব চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনার কারণ ও প্রভাব
এই গণ-দলবদলের চেষ্টার নেপথ্যে প্রধান কারণ হলো বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার ওয়ার্ডগুলোতে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়। কাউন্সিলররা বুঝতে পারছেন যে, জনমত বর্তমানে বিজেপির পক্ষে, তাই রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতেই তারা শিবির পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চাইছেন। যদি এই দলবদল বাস্তবায়িত হয়, তবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে হতে যাওয়া কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে বিজেপি একক শক্তিতে বোর্ড গঠনের পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবে। তবে বিজেপি নেতৃত্ব এখনই ঢালাও যোগদানে সবুজ সংকেত দেয়নি; তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং ওয়ার্ডভিত্তিক বিশ্লেষণ সেরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে। আগামী কয়েক সপ্তাহ কলকাতার রাজনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।