গণনাকেন্দ্রে নিগ্রহের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’, কমিশনের কড়া জবাবে তোলপাড়
২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরের ভোট গণনা নিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা যাবতীয় অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, গণনাকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা বা সিসিটিভি বন্ধ রাখার যে দাবি প্রার্থী করেছেন, তা সম্পূর্ণ ‘কল্পনাপ্রসূত’ ও ‘ভিত্তিহীন’।
সোমবার সন্ধ্যায় গণনাকেন্দ্র শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের সামনে এবং পরবর্তী সময়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, গণনাকেন্দ্রে তাঁকে শারীরিক হেনস্তা করা হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, গণনার ৩-৪ রাউন্ড পর থেকেই তৃণমূল কর্মীদের ওপর অত্যাচার শুরু হয় এবং ১৭-সি ফর্ম কেড়ে নেওয়া হয়। এমনকি তাঁকে পিছন থেকে ধাক্কা মেরে বের করে দেওয়া এবং সিসিটিভি বন্ধ রাখার মতো গুরুতর অভিযোগও তিনি আনেন।
কমিশনের কড়া অবস্থান ও স্বচ্ছতার দাবি
তৃণমূল নেত্রীর এই বিস্ফোরক অভিযোগের প্রেক্ষিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কমিশন। মনোজ আগরওয়াল জানান, সম্পূর্ণ গণনা প্রক্রিয়া কমিশনের যাবতীয় নিয়ম মেনে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, গণনা চলাকালীন কোনো মুহূর্তের জন্যই সিসিটিভি বন্ধ করা হয়নি এবং গণনার কাজে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। ধাক্কাধাক্কি বা মারধরের অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই দাবি করে তিনি ইতিমধ্যে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের (ডিইও) কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছেন।
রাজনৈতিক উত্তেজনা ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া
ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর লড়াইকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই রাজনৈতিক পারদ ছিল তুঙ্গে। এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের ফলাফল ঘোষণার মুখে প্রার্থীর এমন অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। তবে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সরাসরি প্রত্যাখ্যান এবং রিপোর্ট তলবের বিষয়টি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কমিশন এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিলেও তথ্যের ভিত্তিতে তা নাকচ করতে বদ্ধপরিকর। এই সংঘাতের ফলে আগামী দিনে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে গণনার নিরপেক্ষতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।