পরাজিত মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা না দিলে কী হতে পারে! জেনে নিন সাংবিধানিক নিয়মাবলি
বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়ী হওয়ার পর এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরাজিত হওয়া সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্তফা দিতে অস্বীকার করায় রাজ্যে সাংবিধানিক সংকটের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। ভারতের সংবিধান এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপালের হাতে বেশ কিছু কঠোর ক্ষমতা রয়েছে। দেখে নিন সেক্ষেত্রে ঠিক কী কী ঘটতে পারে।
রাজ্যপালের বরখাস্ত করার ক্ষমতা
সংবিধানের ১৬৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রিসভা রাজ্যপালের ‘সন্তোষ’ (Pleasure) থাকা পর্যন্ত পদে বহাল থাকেন। যেহেতু তৃণমূল কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে, তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শাসনের নৈতিক ও আইনি অধিকার হারিয়েছেন। রাজ্যপাল তাঁকে পদত্যাগ করার জন্য আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দিতে পারেন। এরপরও যদি তিনি পদ আঁকড়ে থাকেন, তবে রাজ্যপাল নিজের সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি বরখাস্ত বা পদচ্যুত করতে পারেন।
রাষ্ট্রপতি শাসনের সম্ভাবনা
যদি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেন এবং এর ফলে রাজ্যে সাংবিধানিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়ে, তবে রাজ্যপাল ৩৫৬ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগের সুপারিশ করতে পারেন। কেন্দ্রের কাছে পাঠানো রিপোর্টে তিনি ‘সাংবিধানিক অচলাবস্থা’র কথা উল্লেখ করলে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে। এর ফলে প্রশাসনিক ক্ষমতা সরাসরি রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি হিসেবে রাজ্যপালের হাতে চলে যাবে।
প্রশাসনিক ক্ষমতা ‘ফ্রিজ’ বা স্থগিত হওয়া
আইনত সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো কোনও ব্যক্তি প্রশাসনিক আদেশ দেওয়ার বৈধতা হারান। এমতাবস্থায় রাজ্যপাল সচিবালয়, মুখ্য সচিব কিংবা পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিতে পারেন যাতে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর কোনও নতুন নির্দেশ পালন করা না হয়। অর্থাৎ, আগামী ৭ মে-র পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক ক্ষমতা কার্যত স্তব্ধ বা ‘ফ্রিজ’ হয়ে যেতে পারে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তখন কেবল রাজ্যপালের নির্দেশে চলতে হবে।
নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ ও স্বয়ংক্রিয় বদল
গণতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী, বিধানসভার ফল প্রকাশের পর রাজ্যপাল একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোটের নেতাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। পুরোনো মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করুন বা না করুন, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ গ্রহণ করার মুহূর্তেই আগের সরকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে পুরোনো মন্ত্রিসভার কোনও অস্তিত্ব আর আইনি নথিতে থাকে না।
সাধারণত সৌজন্যের খাতিরে এবং প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে ‘তত্ত্বাবধায়ক’ বা কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়। কিন্তু ইস্তফা নিয়ে জেদ বজায় রাখলে রাজ্যপাল কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।