বাংলায় পালাবদল! নথিপত্র রক্ষায় নবান্নের নজিরবিহীন কড়াকড়ি

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল নবান্ন। মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা একটি জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছেন, যেখানে সরকারি নথিপত্রের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে একগুচ্ছ কঠোর নিয়মাবলী আরোপ করা হয়েছে। ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে যখন নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি চলছে, ঠিক সেই সন্ধিক্ষণে এই প্রশাসনিক আদেশকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

নথি সরানো ও প্রতিলিপিতে নিষেধাজ্ঞা

মুখ্যসচিবের জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অনুমতি ছাড়া সরকারি অফিস থেকে কোনও ফাইল বা নথিপত্র বাইরে নিয়ে যাওয়া যাবে না। এমনকি দপ্তরের প্রয়োজনীয় নথির ফটোকপি (জেরক্স) বা প্রিন্ট আউট নেওয়ার ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ আধিকারিকের আগাম অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নথিপত্র আদান-প্রদানের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল এবং হার্ডকপি—উভয় মাধ্যমেই নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন এই কঠোর পদক্ষেপ?

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ক্ষমতা হস্তান্তরের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং নথিপত্র লোপাট হওয়া রুখতেই এই সিদ্ধান্ত। সাধারণত সরকার পরিবর্তনের সময় প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নষ্ট বা পাচার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নবগঠিত সরকারের হাতে যাতে যাবতীয় তথ্য ও প্রশাসনিক রেকর্ড সুরক্ষিতভাবে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাই এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য।

প্রশাসনিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, নবান্নের এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দেয়। আদর্শ আচরণবিধি (এমসিসি) শেষ হওয়ার পর নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার আগে পর্যন্ত প্রতিটি দপ্তরের নথিপত্র যাতে অবিকৃত থাকে, তার ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। এর ফলে সরকারি কাজে যেমন স্বচ্ছতা বজায় থাকবে, তেমনই নতুন সরকারের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ ও পূর্ববর্তী কাজের খতিয়ান বুঝে নেওয়া অনেক সহজ হবে। নবান্নের এই কড়াকড়িতে বর্তমানে প্রশাসনিক অলিন্দে এক চাপা উত্তেজনা ও সতর্কতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *