মেয়ের বিচারের লক্ষ্যে বিধানসভায় পা রাখছেন ডক্টর দেবনাথের মা
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে সবথেকে আলোচিত জয়টি এসেছে পানিহাটি কেন্দ্র থেকে। আরজি কর হাসপাতালের নিহত সেই তরুণী চিকিৎসকের মা, রত্না দেবনাথ বিপুল জনসমর্থন নিয়ে জয়ী হয়ে এখন বিধানসভার পথে। জয়ের পরেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর এই রাজনৈতিক লড়াইয়ের মূল উদ্দেশ্য কেবল ক্ষমতায় আসা নয়, বরং তাঁর মেয়ের মৃত্যুর পেছনে দায়ী স্বাস্থ্য দফতরের দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলা।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াইয়ের ডাক
ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর রত্না দেবনাথ জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে যে ‘থ্রেট কালচার’ ও গভীর দুর্নীতির শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, বিধায়ক হিসেবে তাঁর প্রথম কাজ হবে সেই দুর্নীতির উৎস খুঁজে বের করা। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার অবসানের পর তিনি পানিহাটি এলাকাকেও ‘ঘোষ পরিবারের’ নিয়ন্ত্রণ ও ভয়মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাঁর মতে, বাংলাজুড়ে কর্মসংস্থানহীনতা ও প্রশাসনিক অব্যবস্থার যে বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে তার ইতি ঘটবে।
তিলোত্তমার পরিচয় ছাপিয়ে ডক্টর দেবনাথের মা
রাজনীতিতে আসা নিয়ে শুরুর দিকে নানা দ্বিধা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিচারের তাগিদেই ময়দানে নেমেছিলেন রত্না দেবী। জয়ের পর আবেগপ্রবণ কণ্ঠে তিনি জানান, কোনো রাজনৈতিক পদমর্যাদা নয়, বরং তিনি সারাজীবন ‘ডক্টর দেবনাথের মা’ হিসেবেই পরিচিত হতে চান। ভবানীপুর কেন্দ্রে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় প্রসঙ্গে তিনি কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দাবি করেছেন।
প্রভাব ও রাজনৈতিক তাৎপর্য
দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা প্রতিপক্ষদের পরাজিত করে রত্না দেবনাথের এই জয় বাংলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে একটি বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও বিচারের আকাঙ্ক্ষাই যে তাঁকে ব্যালট বক্সে সাফল্য এনে দিয়েছে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে স্পষ্ট। এখন বিধানসভার ভেতরে দাঁড়িয়ে তিনি কীভাবে স্বাস্থ্য দফতরের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেন এবং মেয়ের হত্যার নেপথ্যে থাকা দুর্নীতির জট খোলেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।