হারলেও লড়াই থামছে না, পানিহাটিতে জয়ের পর বিজেপিকে কড়া বার্তা কলতানের
পানিহাটির নির্বাচনী ময়দানে ‘অভয়া’র মায়ের কাছে পরাজিত হলেও দমে যেতে নারাজ বামপ্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত। রাজ্যের দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং আরজি কর কাণ্ডের সুবিচারের দাবিতে সরব হওয়া এই যুবনেতা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ভোটের ফল যাই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের দাবি আদায়ে রাজপথই তাঁর আসল ঠিকানা। অভয়া আন্দোলনের পরিচিত মুখ কলতান জেলেও গিয়েছিলেন, তবে বিধানসভার লড়াইয়ে মানুষের রায় তাঁর পক্ষে যায়নি।
ব্যর্থ বামেদের পুনরুদ্ধার মিশন
নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই কলতান দাশগুপ্ত অভয়া কাণ্ডকে মূল হাতিয়ার করেছিলেন। কিন্তু ভোটবাক্সের পরিসংখ্যানে স্পষ্ট যে, বামেরা তাদের হারানো জমি ফিরে পেতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এই আসনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ। মেয়ের অকালমৃত্যুর শোক ও সুবিচারের আবেগকে সঙ্গী করে তিনি বড় জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রত্না দেবনাথের ব্যক্তিগত আবেদন ও বিজেপির সাংগঠনিক শক্তির কাছে কলতানের লড়াই কার্যত ম্লান হয়ে গিয়েছে। তবে প্রতিপক্ষ জয়ী প্রার্থীর প্রতি কোনো ক্ষোভ প্রকাশ না করে কলতান জানিয়েছেন, তিনি মানুষের রায় মাথা পেতে নিয়েছেন।
বিজেপির জয় এবং ভবিষ্যৎ আন্দোলনের গতিপথ
কলতান দাশগুপ্তের মতে, পানিহাটিতে বিজেপির এই জয় বাংলার জন্য ইতিবাচক কোনো বার্তা নয়। বরং এই জয়কে তিনি ‘বাংলার অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়ার সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিজেপি কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় থাকাকালীন বারবার তৃণমূলের দুর্নীতির ফাইল খোলার হুঁশিয়ারি দিলেও, বাস্তবে কাজের কাজ কতটা হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। কলতান সাফ জানিয়েছেন, যদি বিজেপি প্রতিশ্রুতি মতো পদক্ষেপ না নেয়, তবে তাঁরা পুনরায় বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন।
ফল ঘোষণার পর কলতান বলেন, “গতকালও আমরা সুবিচার চেয়ে রাস্তায় ছিলাম, আজও চাই।” এই মন্তব্য থেকে পরিষ্কার যে, পরাজয় তাঁর আন্দোলনের সংকল্পে চিড় ধরাতে পারেনি। পানিহাটির মানুষের পাশে থেকে আগামিতে বেকারত্ব ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, কলতানের এই অনড় অবস্থান বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, সংসদীয় রাজনীতিতে হারলেও রাজপথের আন্দোলনে বামেরা এখনই পিছু হটছে না।