শুভেন্দুই কি বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী? জল্পনা উসকে দিলেন খোদ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব!
ঐতিহাসিক জয়ের পর বাংলা এখন এক নতুন রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। চারদিকে শুধু একটাই প্রশ্ন—রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন? বঙ্গ বিজেপির অন্দরে কান পাতলে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি যে নামটি শোনা যাচ্ছে, তা হলো শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্যের পর তাঁকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে পদ্মশিবিরের অন্দরমহল।
মমতাকে দু’বার হারানোর চমক ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভরসা
শুভেন্দু অধিকারীর পাল্লা ভারী হওয়ার পেছনে রয়েছে কিছু অকাট্য যুক্তি। দলের একাংশের মতে, তিনি বর্তমান রাজনীতির সেই বিরল নেতা যিনি পর পর দু’বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে নির্বাচনী ময়দানে পরাজিত করেছেন। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামের পর ২০২৬-এ ভবানীপুর কেন্দ্রে তাঁর জয় রাজ্য রাজনীতিতে শুভেন্দুর গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া, নরেন্দ্র মোদির পর তিনিই একমাত্র বিজেপি নেতা যিনি এবারের নির্বাচনে দুটি আসন থেকে লড়াই করে দুটিতেই জয়ী হয়েছেন।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সশরীরে উপস্থিতি তাঁর প্রতি হাইকম্যান্ডের বিশেষ আস্থার ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনভিত্তি বিচারে শুভেন্দু বর্তমানে বঙ্গ বিজেপির সবচেয়ে শক্তিশালী মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
পঁচিশে বৈশাখে শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি ও আরএসএস ফ্যাক্টর
দলীয় সূত্রে খবর, আগামী ৯ মে অর্থাৎ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীর পুণ্য লগ্নেই নতুন সরকার শপথ নিতে পারে। বাঙালির আবেগ ও সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিতেই পঁচিশে বৈশাখের এই পরিকল্পনা। ওই মেগা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
তবে বিজেপির রাজনীতিতে শেষ মুহূর্তের চমক একটি নিয়মিত বিষয়। অতীতেও দেখা গেছে, জনমানসে প্রচলিত নামের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) কোনো কট্টর অনুগামী বা সম্পূর্ণ নতুন কোনো মুখকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর নাম সব মহলে আলোচিত হলেও, শেষ পর্যন্ত দিল্লির সিলমোহর কার ভাগ্যে পড়ে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে শুভেন্দুর হাত ধরে বিজেপির এই জয় যে তাঁর দাবিকে অন্য সবার চেয়ে জোরালো করেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।