প্রাথমিক ট্রেন্ডে গেরুয়া ঝড়, এখন পর্যন্ত কে কোথায় এগিয়ে?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনার প্রাথমিক ট্রেন্ডে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত মিলছে। সোমবার সকাল থেকেই গণনাকেন্দ্রগুলি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে অনেকটা পিছনে ফেলে জয়ের পথে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে বিজেপি। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য বলছে, ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনেই এগিয়ে রয়েছে গেরুয়া শিবির, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার (১৪৮) থেকে অনেক বেশি। বিপরীতে, ঘাসফুল শিবির আপাতত থমকে আছে মাত্র ৮০টি আসনে।

বিজেপির দাপট ও তৃণমূলের দুর্গ রক্ষা

প্রাথমিক এই ‘গেরুয়া ঝড়ে’ খড়কুটোর মতো উড়ে যাচ্ছে শাসক দলের একাধিক শক্তিশালী ঘাঁটি। উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল— সর্বত্রই লিড ধরে রেখেছে বিজেপি। শিলিগুড়িতে শংকর ঘোষ এবং বাঁকুড়ায় নিলাদ্রী শেখর দানা বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। ঝাড়গ্রাম ও হলদিয়াতেও পদ্ম শিবিরের দাপট অব্যাহত। তবে কলকাতার চালচিত্র কিছুটা ভিন্ন। ফিরহাদ হাকিম কলকাতা বন্দরে বিশাল লিড নিয়ে নিজের জমি শক্ত রেখেছেন এবং রাজারহাট-গোপালপুরে অদিতি মুন্সি এগিয়ে থাকলেও সোনারপুর দক্ষিণে বিজেপি প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় চাপে রেখেছেন শাসক দলকে। অন্যদিকে, ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে প্রতি রাউন্ডে পাল্টে যাচ্ছে অগ্রগতির সমীকরণ।

বাম-কংগ্রেসের অস্তিত্বের লড়াই ও সম্ভাব্য প্রভাব

গত নির্বাচনের তুলনায় এবারও বামেদের ফল খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। এখনো পর্যন্ত মাত্র দুটি আসনে এগিয়ে থেকে ‘শূন্যের গেরো’ কাটানোর লড়াই চালাচ্ছে তারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের এই ট্রেন্ড যদি শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে, তবে তা বাংলার রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর ক্ষমতার হাতবদল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় প্রশাসনিক স্তরে বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে অনেক আসনেই ব্যবধান সামান্য হওয়ায় চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে নারাজ রাজনৈতিক মহলে। আপাতত নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা গণনাকেন্দ্রগুলির দিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *