প্রাথমিক ট্রেন্ডে বিজেপির জয়জয়কার, এগিয়ে একঝাঁক হেভিওয়েট প্রার্থী
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার শুরুর কয়েক ঘণ্টায় বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত মিলছে। পোস্টাল ব্যালট এবং ইভিএম গণনার প্রাথমিক পর্যায়ে রাজ্যের একাধিক কেন্দ্রে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের তুলনায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থীরা। বিশেষ করে তারকা প্রার্থী এবং পোড়খাওয়া রাজনীতিকদের এই লিড পদ্ম শিবিরকে রাজ্যে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসার জোরালো স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
প্রথম সারিতে থাকা উল্লেখযোগ্য প্রার্থীরা হলেন:
- দক্ষিণবঙ্গ ও কলকাতা: কলকাতার মর্যাদার লড়াইয়ে রাসবিহারী কেন্দ্রে এগিয়ে রয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত। অন্যদিকে বরানগরে সজল ঘোষ এবং শিবপুরে রুদ্রনীল ঘোষ লিড ধরে রেখেছেন। সোনারপুর দক্ষিণে রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এবং শ্যামপুকুরে পূর্ণিমা চক্রবর্তী প্রাথমিক ট্রেন্ডে এগিয়ে।
- শিল্পাঞ্চল ও জঙ্গলমহল: আসানসোল দক্ষিণে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন অগ্নিমিত্রা পাল। পাণ্ডবেশ্বরে জিতেন্দ্র তিওয়ারি এবং উত্তর ২৪ পরগনার হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নোয়াপাড়ায় অর্জুন সিং এগিয়ে রয়েছেন। সিউড়ি কেন্দ্রে লিড পেয়েছেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
- দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য আসন: ময়নায় প্রাক্তন ক্রিকেটার অশোক দিন্দা এবং শ্যামপুরে অভিনেতা-রাজনীতিক হিরণ চট্টোপাধ্যায় বর্তমানে এগিয়ে।
লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট:
এবারের নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর সম্মুখসমর এবং সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের বিরুদ্ধে ‘প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া’ (Anti-incumbency) এই লিডের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে কয়েক রাউন্ড অন্তর ব্যবধান পরিবর্তিত হচ্ছে, তবে সামগ্রিক ট্রেন্ডে বিজেপির প্রার্থীদের এই সাফল্য রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বেলা বাড়ার সাথে সাথে এই প্রাথমিক ট্রেন্ড কতটুকু স্থায়ী হয় এবং তৃণমূল কংগ্রেস তাদের গ্রামীণ ভোটব্যাংকের জোরে ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা বাংলা। চূড়ান্ত ফলাফল স্পষ্ট হতে বিকেল গড়িয়ে যাবে।