‘হিন্দু ইভিএম বিজেপির, মুসলিম ইভিএম তৃণমূলের!’ ভোটের ট্রেন্ড আসতেই বাংলায় নতুন সমীকরণ দিলেন শুভেন্দু
ভোটগণনার আড়াই ঘণ্টা পার হতেই বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বেলা ১০টা ৩৯ মিনিটের আপডেটে শুভেন্দু দাবি করেন, এবারের নির্বাচনে ধর্মীয় মেরুকরণ অত্যন্ত স্পষ্ট। তাঁর মতে, হিন্দু প্রধান এলাকার ইভিএম বিজেপির অনুকূলে থাকলেও মুসলিম প্রধান এলাকার ইভিএম তৃণমূলের পক্ষে গিয়েছে। তবে এর মধ্যেই ভবানীপুর কেন্দ্রে শুরু হয়েছে বড়সড় ওলটপালট।
ধর্মীয় মেরুকরণ ও শুভেন্দুর বিশ্লেষণ
সংবাদমাধ্যমের সামনে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, “প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে হিন্দু ইভিএম বিজেপির এবং মুসলিম ইভিএম তৃণমূলের। তবে মুসলিম ভোটেও এবার আগের মতো একচেটিয়া কনসলিডেশন নেই।” তিনি দাবি করেন, ১৩৫টি আসনে বিজেপি বর্তমানে এগিয়ে রয়েছে এবং পোস্টাল ব্যালটের প্রবণতাও পদ্ম শিবিরের অনুকূলে। কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর কড়া বার্তা—”বিজয় নিশ্চিত, তাই কোনো ধরনের হিংসা বা প্ররোচনায় পা দেবেন না। কুকুর মানুষের পায়ে কামড়ায়, কিন্তু মানুষ কুকুরের পায়ে কামড়ায় না।”
ভবানীপুরে মমতার লিড, নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অটল
সকালের প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ভবানীপুর কেন্দ্রে আবার লিড নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মমতা বর্তমানে ১৯৫৬ ভোটে শুভেন্দু অধিকারীর থেকে এগিয়ে গিয়েছেন। যদিও এই লিডকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ শুভেন্দু। তাঁর দাবি, শুরুর দিকের রাউন্ডগুলো মুসলিম অধ্যুষিত ওয়ার্ডের হওয়ার কারণে এই ব্যবধান, কিন্তু ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং হিন্দু প্রধান এলাকাগুলোর গণনা শুরু হলে তিনি বড় ব্যবধানে এগিয়ে যাবেন। অন্যদিকে, নন্দীগ্রামে এখনও নিজের লিড বজায় রেখেছেন শুভেন্দু, সেখানে তৃণমূলের পবিত্র কর পিছিয়ে রয়েছেন।
রাজ্য রাজনীতির বর্তমান চিত্র
- বিজেপির দাবি: ১৩৫টি আসনে লিড এবং সরকার গড়ার বিষয়ে ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাস।
- তৃণমূলের লড়াই: ভবানীপুরে মমতার লিড পুনরুদ্ধার এবং মুসলিম ভোটব্যাংকে ফাটল রোখার আপ্রাণ চেষ্টা।
- শান্তির আবেদন: দুই শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বই কর্মীদের শান্ত থাকার এবং বেলা ১২টা পর্যন্ত চূড়ান্ত মন্তব্যে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
লড়াই এখন সমানে সমানে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নবান্নের চাবিকাঠি কার হাতে যাবে, তা নিয়ে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। ভবানীপুরের এই রোলার-কোস্টার ট্রেন্ড শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।