‘অবাধ ও স্বচ্ছ গণনাই লক্ষ্য’, নির্বাচনের চূড়ান্ত দিনে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিতে জোর কমিশনের
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের মহারণ শেষে এখন প্রতীক্ষা ফলাফল ঘোষণার। সোমবারের হাইভোল্টেজ মহাগণনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করলেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল। রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান, ৪ মে-র গণনা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে কমিশন যাবতীয় প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে। কোথাও কোনো অশান্তির অবকাশ রাখা হয়নি বলে দাবি তাঁর।
ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
এবারের গণনায় কোনো রকম ফাঁকফোকর রাখতে নারাজ কমিশন। রাজ্যজুড়ে কেন্দ্রগুলিতে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
- নিরাপত্তা বলয়: গণনাকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে কড়া পাহারা থাকবে। প্রবেশপথে থাকবে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশ এবং স্ট্রংরুম ও গণনা হলের মূল দায়িত্বে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
- ডিজিটাল কার্ড: এই প্রথমবার আধিকারিক, প্রার্থী এবং এজেন্টদের জন্য ‘ECINET’-এর মাধ্যমে কিউআর (QR) কোড যুক্ত ফটো আইডেন্টিটি কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে কোনো অননুমোদিত ব্যক্তি প্রবেশ করতে না পারে।
- রিয়েল-টাইম আপডেট: গণনার প্রতিটি ধাপের ফলাফল সাথে সাথে কমিশনের সরকারি পোর্টাল ও অ্যাপে আপডেট করা হবে।
বিশেষ নজরদারি ও সময়সূচী
ভবানীপুরের সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল বা নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে পরিচিত ফলতা ও মগরাহাটেও অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার সকাল ৮টায় প্রথমে পোস্টাল ব্যালট গণনার মাধ্যমে শুরু হবে দিনের কাজ। তার ঠিক আধঘণ্টা পর অর্থাৎ সকাল ৮:৩০টা থেকে শুরু হবে ইভিএম (EVM) গণনা।
প্রস্তত উত্তর থেকে দক্ষিণ
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ থেকে শুরু করে দক্ষিণের সাগর—রাজ্যের প্রতিটি কোণায় গণনার পরিকাঠামো এখন তৈরি। মেখলিগঞ্জ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের মতো কেন্দ্রগুলিতে ইতিমধ্যেই সমস্ত মহড়া সম্পন্ন হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়া বা বৃষ্টির আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের মতে, ভোটগ্রহণের মতো গণনা পর্বেও সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা বজায় থাকবে এবং ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্নেই মিটবে।