ফলতায় গণতন্ত্র ফেরানোর লড়াইয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে বড় জয় হিসেবে দেখছেন দিলীপ ঘোষ!
রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে ফের নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতা বিধানসভা এলাকা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেখানে নির্বাচন কমিশনের পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তকে কেবল স্বাগত জানানোই নয়, বরং একে সাধারণ মানুষের নৈতিক জয় হিসেবে অভিহিত করেছেন খড়গপুর সদরের হেভিওয়েট বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই অঞ্চলের ভোটাররা নিজেদের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারেননি বলে যে অভিযোগ বিরোধী শিবির থেকে বারবার তোলা হচ্ছিল, কমিশনের এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই অভিযোগেরই এক প্রকার প্রশাসনিক স্বীকৃতি। দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ফলতার প্রতিটি বুথে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা না গেলে প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটা অসম্ভব।
গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও ডায়মন্ড হারবার মডেলের চ্যালেঞ্জ
নির্বাচন কমিশনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে দিলীপ ঘোষ দাবি করেছেন যে, কেবলমাত্র নির্দিষ্ট কিছু বুথে সীমাবদ্ধ না থেকে জনস্বার্থে এবং স্বচ্ছতার খাতিরে পুরো বিধানসভা কেন্দ্রেই পুনরায় ভোট গ্রহণ করা উচিত। তিনি জোরালোভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তথাকথিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ আসলে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পেশীশক্তির মাধ্যমে জনমতকে অবদমন করার একটি নেতিবাচক কৌশল মাত্র। তাঁর ভাষায়, সাধারণ মানুষের নিজের হাতে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক চাপে দমন করে রাখা হয়েছিল, এই পুনর্নির্বাচন সেই অবরুদ্ধ গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকেই মুক্তি দেবে। এই প্রেক্ষাপটে দিলীপ ঘোষের এই অবস্থান শাসক দলের নির্বাচনী কৌশলের বিরুদ্ধে এক তীব্র রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও সম্ভাব্য সুদূরপ্রসারী প্রভাব
এই পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের রদবদল ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল। নির্বাচনের মূল দিনে বুথ দখল এবং ভোটারদের বুথমুখী হতে বাধা দেওয়ার ভূরি ভূরি অভিযোগই এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে। যদি কেন্দ্রীয় বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার বলয়ে ফলতার মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তবে তা শাসক দলের এই চিরাচরিত শক্ত ঘাঁটিতে ফাটল ধরাতে পারে। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে বলা যায়, এই মডেল যদি সফলভাবে কাজ করে, তবে তা রাজ্যের অন্যান্য স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতেও বিরোধীদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে। একইসঙ্গে, অবাধ ভোট হলে নির্বাচনি ফলাফলে বড় ধরনের রদবদল ঘটার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।